স্বর্গ

৮৬/১. স্বর্গ
Heaven (হ্যাভেন)/ ‘جنات’ (জান্নাত)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শান্তি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা শান্তি। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ময়না। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা সুখচাঁদ এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা পাখি। এ পরিভাষাটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জরায়ু, দেহশান্তি এ ৩টি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তারই রূপক ও ব্যাপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য; পরিভাষাটির ব্যবহার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা সব পাঠক শ্রোতার একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

অভিধা (Appellation)
স্বর্গ (বাপৌরূ)বি সুখ প্রদান করে এমন, সুখপ্রদ স্থান, প্রশান্তিময় স্থান, আনন্দময় মোক্ষ, heaven, ‘جنات’ (জান্নাত) (আল) ১. অম্বর, আকাশ, গগন, নভ, ব্যোম ২. সুখ, শান্তি, সচ্ছলতা, সুস্থতা, স্বাধীনতা . সুখী জীবন, পরম আনন্দময় জীবন (বিপ) মর্ত্য (ব্য্য) স্বর্গ ভিন্ন কোনো স্থানের নাম নয়; সেখানে রূপকথার অপ্সরা, উর্বশী, কিন্নরী ও স্বর্গবেশ্যাদের প্রেম-মায়াও পাওয়া যায় না। মানবজীবনের সুখী ও সুখময় অবস্থাই স্বর্গ। কেউ কেউ ‘অন্তরিক্ষ’ এর অর্থ করেছে স্বর্গ বা heaven ‘অন্তরিক্ষ’ এর বৈদিক অর্থ কী? ‘বৈদিক কোষ’ এর ৬০ পৃষ্ঠায় বলা আছে, ‘অন্তরিক্ষ = অন্তরে ক্ষিয়তি’ অর্থাৎ; মহাকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী যে স্থান; তার নামই অন্তরিক্ষ’। অর্থাৎ; দেখা যাচ্ছে দ্যুলোক বা অন্তরিক্ষ কোনোটিই এমন কোনো স্থানকে নির্দেশ করে না; যা কিনা পুরাণ ও কুরানে বর্ণিত মৃত্যু পরবর্তী সময়ে প্রাপ্ত বিলাসময় কোনো স্থান। এবার দেখে নেই বৈদিক শব্দকোষে স্বর্গ-নরক নামে পৃথিবী বহির্ভূত বিলাসবহুল বা ভয়ার্ত কোনো স্থানের কথা বলা আছে কিনা! অনেকে দ্যুলোককে স্বর্গলোক বলে থাকে। বৈদিক কোষেও একস্থানে দ্যুলোককে স্বর্গলোক বলা হয়েছে। কিন্তু এ স্বর্গ কী? ‘বৈদিক কোষ’ এর ১৪৭৫-৭৬ পৃষ্ঠায় স্বর্গের ব্যাখ্যায় লেখা আছে- ‘স্বর্গ = র্স্ব+ গ। ১. সুখ প্রদান করে এমন পদার্থ ২. আনন্দময় মোক্ষ . সুখার্থ পুরুষার্থ।’ অর্থাৎ; দেখা যাচ্ছে স্বর্গ এমন কোনো স্থান নয়- যেখানে অপ্সরা উর্বশী, কিন্নরী, রম্ভা ও স্বর্গবেশ্যা বসবাস করে। বরং জীবনের সুখাবস্থা বা পরম পুরুষার্থ বা মোক্ষকেই স্বর্গ বলা হয় (তথ্যসূত্রঃ বিলাসময় ওয়েবসাইট) (পরি) সুশিক্ষা ও দিব্যজ্ঞান অর্জন করে পশুকুল, মানবকুল ও দেবকুল অতিক্রম করে ঈশ্বরকুলে গমন করে অনাবিল সুখ-শান্তিতে বসবাস (প্র) ১. বাঙালী পুরাণ মতে; পুণ্যবাণদের মরণোত্তর প্রশান্তিময় স্থান বিশেষ . পুণ্যত্মাদের আবাসভূমি বিশেষ . ভূর্লোক, ভুবর্লোক, স্বর্গলোক, মহর্লোক, জনলোক, তপলোক ও সত্যলোক; বাঙালী পুরাণ মতে; রূপকথার এ সপ্তস্বর্গ বিশেষ . বাঙালী পৌরাণিক বেদান্ত দর্শন মতে; ব্রহ্মলোক, পিতৃলোক, সোমলোক, ইন্দ্রলোক, গন্ধর্বলোক, রাসলোক; রূপকথার এ সপ্তস্বর্গ বিশেষ . গ্রিক পুরাণ মতে; Dreamland, Eden, Elysium, Olympus, Paradise, Utopia & Zion; রূপকথার এ সপ্তস্বর্গ বিশেষ . পারসিক পুরাণ মতে; প্রয়াত পুণ্যাত্মাদের বসবাসের কল্পিত সুখময় স্থান বিশেষ . পারসিক পুরাণ মতে; ‘ﺨﻠﺪ’ (খালাদা), ‘ﺴﻼﻡ’ (সালাম), ‘عدن’ (আদনা), ‘ﻔﺮﺪﻮﺱ’ (ফের্দাউস), ‘ﻘﺮﺍﺮ’ (ক্বারার), ‘مَأْوَىٰ’ (মা’ওয়া), ‘ﻧﻌﻴﻢ’ (না’ঈম) ও ‘ﻤﻜﺎﻦ’ (মাকান); রূপকথার এ ৮টি স্বর্গ বিশেষ . বাঙালী পুরাণ মতে; অমরা, অলকা, দ্যাবা, দ্যু, দ্যো, বৈকুণ্ঠ ও ব্রজ; রূপকথার এ সপ্তস্বর্গ বিশেষ . আধুনিক বাঙালী পুরাণ মতে; দৈহিকা, বৈচন ও মৈনাক; রূপকথার এ তিনটি স্বর্গ বিশেষ ১০. সারা বিশ্বের আত্মজ্ঞানী দার্শনিক ও শ্বরবিজ্ঞানীদের আত্মদর্শন কেন্দ্রিক বাস্তবমুখী বর্ণনা মতে; মানবদেহের নাভির উপরের অংশ বিশেষ ১১. সারা বিশ্বের আত্মদর্শন কেন্দ্রিক বাস্তবমুখী বর্ণনা মতে; পশুকুল, মানবকুল, দেবতাকুল ও ঈশ্বরকুল; এ চারকুলের সর্বশেষ কুল বিশেষ (শ্ববি) সুশিক্ষা, শান্তি, স্বাধীনতা, ঈশ্বরকুল (রূপ্রশ). ঊর্ধ্বলোক, দেবলোক, স্বর্গধাম, স্বর্গোদ্যান, দিব্যধাম, দিব্যলোক, স্বপ্নরাজ্য, স্বপ্নজগৎ, কল্পরাজ্য, কল্পনারাজ্য, কল্পলোক, অমরাধাম, অমরালোক. নন্দন, নন্দনকানন, নন্দালয়, নন্দীপুর, নন্দীগ্রাম (ইংপ) Dreamland, Fairyland (ইপ) ‘سماء’ (সামায়া), ‘عِلِّيُّوْنُ’ (ইল্লিয়ুন), ‘ফা.ﺒﻬﺷﺖ)’ (বেহেস্ত) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শান্তি পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) . সাধারণত; যে কোনো সুখপ্রদ স্থানকে বাংলায় ‘স্বর্গ বলা হয়. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, শান্তিকে রূপকার্থে ‘স্বর্গ বলা হয় (বাপৌছ) পাখি (বাপৌচা) সুখ-চাঁদ (বাপৌউ) ময়না (বাপৌরূ) স্বর্গ (বাপৌমূ) শান্তি {সং.র্স্ব + গ}

প্রপক (Extensive)
স্বর্গ দেবতাগণের বাসস্থান বিশেষ। এখানে; দেবতাগণ ভক্তদের বর প্রদান করেন। দেবতাগণের নৈতিক আদর্শ মানুষের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। স্বর্গে পুণ্যবানদের সর্বপ্রকার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়। এক জন্ম হতে অন্য জন্মের মধ্যে মানুষ সৎকর্মের পুরস্কারস্বরূপ স্বর্গলাভ করে। দেবতাগণ তপস্যা করেন না। তারা অবতারও নন। মানুষ তপস্যা বা সৎকর্ম দ্বারা স্বর্গে স্থানলাভ করে। তবুও; মানুষের পুনর্জন্মের ক্ষান্ত হয় না কিংবা মুক্তি বা মোক্ষলাভ হয় না। দেবতা ছাড়াও স্বর্গে অনেক ঋষি বাস করেন। যেমন; নারদ, বিশ্বামিত্র ও বশিষ্ট প্রমুখ। এছাড়াও; এখানে; অনেক প্রজাপতি বাস করেন। ঋষিগণ দেবতাগণের পুরোহিত এবং প্রজাপতিরা উপাসক। এখানে; পৌরাণিক অপ্সরা, গন্ধর্ব, কিন্নর ও অনেক জীবজন্তু বাস করে। পৌরাণিক জীবজন্তুর মধ্যে বিষ্ণুর গরুড় ও গণেষের মূষিক; এখানে বাস করে। অপ্সরা, গন্ধর্ব ও কিন্নর কখনও মানবজন্ম পায় না। অসুর, দৈত্য ও রাক্ষসরা অপদেবতা শ্রেণির। এঁরা দেবতাগণের সাথে চিরন্তন যুদ্ধে নিযুক্ত। দেবতাগণ ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের নিকট এসব অপদেবতার অত্যাচার হতে রক্ষা পাবার জন্য সদা প্রার্থনা করে থাকেন (পৌরাণিক অভিধান)

স্বর্গীয় (বাপৌছ)বিণ সুখময়, পবিত্র, ঐশ্বরিক, দিব্য, দৈব, আকাশী, গাগনিক, বায়বীয়, জ্যোতির্ময়, বিশুদ্ধ, অমর, আকাশস্থ, আকাশজাত, নভস্থিত, দেবতুল্য, অপার্থিব, অতিপ্রাকৃত, স্বর্গজাত, গগনচারী, অতিমানবিক, অশরীরী, নক্ষত্রমণ্ডলীয়, বিশুদ্ধ আগুনে গঠিত, পবিত্র অগ্নিজাত, heavenly, divine, celestial, godlike, empyreal, empyrean, ethereal, etherial, unearthly, amaranthine, blissful, Olympian, supernal, Elysian, sainted, Uranian, Upstairs, ‘سماوي’ (সামাওয়্যি), ‘علوى’ (আলুউয়্যি), ‘رائع’ (রায়া), ‘مبهج’ (মুবহেজ), ‘مقدس’ (মুক্বাদ্দিস) (প্র) গ্রিক পৌরাণিক উচ্চশ্রেণির দেবতাগণের মধ্যে একজন।

সংস্কৃত, বেদান্ত, বাংলা, গ্রিক ও আরবীয় স্বর্গ পরিভাষার সুসামঞ্জস্য (Adjustment of Sanskrit, Vedanta, Bengali, Greek & Arabian Heaven terminology)

ক্র সংস্কৃত বেদান্ত বাংলা গ্রিক আরবীয় মূলক
স্বর্গ স্বর্গ স্বর্গ Heaven ‘جنات’ (জান্নাত) শান্তি

সংস্কৃত, বেদান্ত, বাংলা, গ্রিক ও আরবীয় স্বর্গ পরিভাষার সুসামঞ্জস্য (Adjustment of Sanskrit, Vedanta, Bengali, Greek & Arabian Heaven terminology)

ক্র সংস্কৃত বেদান্ত বাংলা গ্রিক আরবীয় মূলক
০. স্বর্গ স্বর্গ স্বর্গ Heaven ‘جنات’ (জান্নাত) শান্তি
১. ভূর্লোক পিতৃলোক দ্যাবা Eden ‘عدن’ (আদনা) দেহ
২. ভুবর্লোক রাসলোক অলকা Dreamland ‘ﻧﻌﻴﻢ’ (না’ঈম) আগধড়
৩. স্বর্গলোক সোমলোক বৈকুণ্ঠ Olympus ‘ﺴﻼﻡ’ (সালাম) জরায়ু
৪. মহর্লোক গন্ধর্বলোক দ্যো Elysium ‘ﻘﺮﺍﺮ’ (ক্বারার) ভৃগু
৫. জনলোক ইন্দ্রলোক দ্যু Zion ‘ﺨﻠﺪ’ (খালাদা) নরদেহ
৬. তপলোক পিশাচলোক অমরা Paradise ‘ﻔﺮﺪﻮﺱ’ (ফের্দাউস) উপস্থ
৭. সত্যলোক ব্রহ্মলোক ব্রজ Utopia ‘مَأْوَىٰ’ (মা’ওয়া) নারীদেহ
৮. অলোক যলোক ব্যোম Fairyland ‘ﻤﻜﺎﻦ’ (মাকান) জীবাত্মা

স্বর্গের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of heaven)
১.   “আছে বেহেস্তের আশায় মু’মিনগণ, হিন্দুরা দেয় স্বর্গেতে মন, টল কী অটল মুক্বাম, লিহাজ করে জানো আগে।” (পবিত্র লালন- ৬৬২/২)
২.   “আপন পাপ স্বীকার করি, সিরাজ সাঁইজির চরণ ধরি, লালন বলে পুণ্য পাবে স্বর্গে যাবে, এর বেশি কী ভাবো।” (পবিত্র লালন- ৭১৫/৪)
৩.   “আবার আমরা মরণের পরে, যাব নাকি স্বর্গ নরকেরে, কে মানবে এসব হেরে, এ দুনিয়ায়।” (পবিত্র লালন- ৩৪৭/৩)
৪.   “এক পিরিতের দ্বিভাব চলন, কেউ স্বর্গে কেউ নরকে গমন, বিনয় করে বলছে লালন, এ জগতে।” (পবিত্র লালন- ৫৯৪/৪)
৫.   “কেউ স্বর্গধামে বাসে, পাপ হলে ফিরে আসে, লালন বলে উর্বশী সে, নর্তকী তার প্রমাণ পাই।” (পবিত্র লালন- ২৮৫/৪)
৬.   “গুরুমাখা ত্রিজগৎময়, কান্না হাসি স্বর্গ নরক হয়, উত্তম স্বেচ্ছ কারে বলা যায়, দেখ গভীরেতে বুঝে।” (পবিত্র লালন- ৮৩২/৩)
৭.   “ধোঁকাবাজি করে সদাই, শিষ্যের সম্পদ লুটে খায়, কামিনীকাঞ্চন ডানে বাঁয়, বাস করে ভূস্বর্গ পুরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৪)
৮.   “পাপী ঢেঁকি যদি স্বর্গে যায়, তিনবেলা ভানাকুটা লাথি না এড়ায়, ফকির লালন বলে নিদানকালে, যেন সৎগুরুর খাই লাথি।” (পবিত্র লালন- ৭১৬/৪)
৯.   “বাহ্য-জ্ঞান অর্জন করলি, নরকবাস বুঝিয়া নিলি, দিব্যজ্ঞান বিনা স্বর্গ হারালি, সুখে দুঃখে মিলেনা তাল।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৭)
১০. “যে ধনেতে ভূস্বর্গ গড়ে হায়, সে ধনই প্রাণ নাশী হয়, ভেবে কয় দয়াল গোঁসাই, বলনরে তোর জীবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২১)
১১.  “যে পঞ্চে পঞ্চভূত হয়, মরলে তা যদি তাতে মিশায়, ঈশ্বর অংশ ঈশ্বরে যায়, স্বর্গ নরক কার মিলে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৬/৩)
১২.  “সাতনরক আটস্বর্গ জুড়ি, চারপ্রধান ষোল প্রহরী, চৌদ্দতলা আঠারপুরী, ঘুরাই কাঁটা ছয়জনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১০)
১৩. “স্বর্গ বলি বেহেস্ত বলি, ঠিকানা সুখের সকলি, দোজখ নরক দুঃখ বলি, শব্দভেদ অভিধানে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৪)
১৪. “স্বর্গ হতে আত্মা ইন্দ্রিয় নামে নিধুবনে, মহান যোগ সমান হাজার মাস গণে, অতিবাহন হইলে নিশি- থাকে না রে কালশশী, আবার স্বর্গে যায়রে মিশি রহে না তার নিশানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৪)
১৫. “স্বর্গের কথা সবাই বলে, অধিকাংশই অনুমানে চলে, কোন জাত কী বুঝায় মূলে, কাঁইজি বলন শুধালে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৬)
১৬.  “স্বর্গের সুখ নাহি চায় সে, মিশতে না চায় সাযুজ্যে, ভাবে বুঝায় কষ্ট নাহি রয়, কৃষ্ণ সুখের সুখী।” (পবিত্র লালন- ৩২৬/৩)

স্বর্গের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ বলন (A full Bolon on the heaven)
আয় কে যাবি মর্ত্যবাসী,
স্বর্গপুরে যাবি আয়,
থাকতে না পেলে স্বর্গ,
দেহত্যাগ পর কিছু নাই।

সুখের নীড় স্বর্গপুরী,
মাসান্তে আসে হুরী,
গুরু দিলে মিলে সবারি,
গুরু বিনা মিলে না ছাই।

স্বর্গপুরী কল্যাণপুরে,
আলিঙ্গন তিনশতষাটি হুরে,
যেতে পারলে পারাপারে,
সেই জীবনে মুক্তি পায়।

শতবর্ণের ফল সেথা,
স্বাধীনারা রয় অপরূপা,
শুনি গিলমানের কথা,
বলন কাঁইজি ভেবে কয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৮)

দেহ অর্থে স্বর্গপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology heaven sense for corpus)
১.   “মা’শুক্বরূপ হৃদয়ে রেখে, থাকে সে পরমসুখে, শতশত স্বর্গ দেখে, মা’শুক্বের চরণে ধরা।” (পবিত্র লালন- ১৮৫/৩)
২.   “শিলা শালগ্রাম হওয়া, বলে দোষাই তা, স্বর্গে গিয়ে সুখ পাওয়া, সেও তো নয় চিরস্থায়ী।” (পবিত্র লালন- ২৮৫/৩)
৩.   “সিজদা করেছে সেতো, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল জুড়া, কোন জায়গা সে বাদ রেখেছে, দেখ রে তোরা।” (পবিত্র লালন- ১৯০/২)
৪.   “স্বর্গ-মর্ত্য পাতাল জুড়া তিনভূতের করাল থাবা, সেথা পঞ্চভূতে করছে খেলা ফাঁক দিলে গোল খাবা, রক্তিমজলা দীঘির পাশে- মরাগোরু উড়ে বাতাসে, মরে শেষে হায়হুতাশে, মরা তার পিছু নিয়েছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৬)
৫.   “স্বর্গ হতে ইঙ্গিত রূপে মনেতে হচ্ছে উদয়, তপস্বিরা বলন প্রকাশ করছে মাতৃভাষায়, সহচরগণ কর্ণে শুনে- আবার নিয়ে যাচ্ছে মনে, হস্ত দ্বারাই কাগজেতে- লিখেরে লেখনিখানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৪)
৬.   “স্বরূপ রূপে রূপের কিরণ, স্বর্গ মর্ত্য পাতাল ভুবন, সিরাজ সাঁইজি কয়রে লালন, দেখ নয়ন খুলে।” (পবিত্র লালন- ৯৭৫/৪)

জরায়ু অর্থে স্বর্গপরিভাষাটির ব্যবহার- ১ (Using the terminology heaven sense for uterus- 1)
১.   “জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা, দেখায় সবাই আসমানে, খোদা আছেন কোন স্বর্গপুরে, কয়জনে ভেদ জানে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৩/১)
২.   “ভূলোক ছেড়ে দ্যুলোক গেলে, স্বর্গলোকের সপ্ততলে, আপনজনা পাবি জলে, বিনয় করে কয় বলন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪)
৩.   “রামদাস মুচি ভবের পরে, ভক্তিবল উদয় করে, স্বর্গে সদাই ঘণ্টা পড়ে, শুনি সাধুর ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৭০৭/৩)

জরায়ু অর্থে স্বর্গপরিভাষাটির ব্যবহার- ২
(Using the terminology heaven sense for uterus- 2)
১.   “এ ভবেতে প্রেমতরী, পাঠিয়ে দিলেন পাপীর লাগি, মানুষ চাপিয়ে তাতে- অনায়াসেতে, স্বর্গেতে পায় অধিকার।” (পবিত্র লালন- ৯৬৭/২)
২.   “জানতে পারলে দেহ-চন্দ্র ঘর, স্বর্গচন্দ্রের পায় সে খবর, লালন কয় মন-চন্দ্র তোর, মূল হারালি কুলের ঘোরে।” (পবিত্র লালন- ৬০/৪)
৩.   “দিব্যজ্ঞান সত্যের ঠিকানা, নিজকে নিজে যায়রে চেনা, গুরুকৃপায় স্বর্গ কেনা, তরীতে উড়াইয়া পাল।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৭)
৪.   “পাতালে সাঁই রূপের বাহার, স্বরূপেতে রয় স্বর্গের ওপর, বলন কয় কী মনোহর, জীবনে যেজন হেরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৩)
৫.   “পুণ্যাত্মা তরে শিষ্যগণে, বয়ে লয়ে চলে স্বর্গধামে, বলন কয় গুরুর গুণে, পার হয়ে যাও নিঃশ্বাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৫)
৬.   “স্বর্গ হতে অবতরণ কেউ কয়, কেউ বলে নবির জন্ম হয়, নবি দেহের শেষ অবতার হয়, কেউ জানে কেউ জানে না।” (পবিত্র লালন- ৫৭৪/২)

স্বর্গের সংজ্ঞা (Definition of heaven)
১.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; সুখপ্রদস্থানকে স্বর্গ বলে।
২.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; পুণ্যবানদের বসবাসের পবিত্র স্থানকে স্বর্গ বলে।

স্বর্গের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of heaven)
১.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; রজস্বলাদের জরায়ুকে স্বর্গ বলে।
২.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শান্তিকে স্বর্গ বলে।

স্বর্গের প্রকারভেদ (Variations of heaven)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে স্বর্গ তিন প্রকার। যথা; ১. সাম্প্রদায়িক স্বর্গ ২. পারম্পরিক স্বর্গ ও ৩.প্রকৃত স্বর্গ।

. সাম্প্রদায়িক স্বর্গ (Schismatical heaven)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; সাম্প্রদায়িকদের অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত স্বর্গকে সাম্প্রদায়িক স্বর্গ বলে।

. পারম্পরিক স্বর্গ (Sequential heaven)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; রজস্বলাদের জরায়ুকে পারম্পরিক স্বর্গ বলে।

. প্রকৃত স্বর্গ (Real heaven)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; সুখ ও স্বাচ্ছন্দময় জীবনযাপনকে প্রকৃত স্বর্গ বলে।

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে স্বর্গ দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান স্বর্গ ও ২. উপমিত স্বর্গ।

. উপমান স্বর্গ (Analogical heaven)
সাধারণত; সুখপ্রদ স্থানকে উপমান স্বর্গ বলে।

. উপমিত স্বর্গ (Compared heaven)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শান্তিকে উপমিত স্বর্গ বলে।

স্বর্গবাসের উপকার (Benefits of bliss)
১.   স্বর্গে প্রবেশ করতে পারলে প্রশান্তিময় জীবনযাপন করা যায়।
২.   মরণের ভয় ও অন্ন-পানীয় চিন্তা থাকে না।

স্বর্গের পরিচয় (Identity of heaven)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শান্তি পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। সারা বিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।

সাধারণত; প্রশান্তিময় স্থানকে স্বর্গ বলা হয়। অন্যদিকে; শ্বরবিজ্ঞানে জরায়ু, শান্তি ও আগধড়কেই স্বর্গ বলা হয়। তবে; এখানে; কেবল শান্তিকেই স্বর্গ বলা হয়েছে। বর্তমান বিশ্ববাসীর নিকট ‘স্বর্গ’ একটি সুপরিচিত পরিভাষা। সাম্প্রদায়িকদের নিকট এর ব্যবহার সর্বাধিক। কেবল সাম্প্রদায়িকরা ভিন্ন বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও আত্মজ্ঞানীগণ এ পরিভাষাটি একেবারেই ব্যবহার করেন না বললেও অত্যুক্তি হবে না। কারণ; এটি; সাম্প্রদায়িক মনীষীদের রূপকার্থে নির্মিত একটি পরিভাষা। বাঙালী পুরাণ অনুসারে; স্বর্গ মোট আটটি। যথা; ১. ভূর্লোক ২. ভুবর্লোক ৩. স্বর্গলোক ৪. মহর্লোক ৫. জনলোক ৬. তপলোক ৭. সত্যলোক ও ৮. অলোক। পক্ষান্তরে; মুসলমান মনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে- স্বর্গ মোট ৮টি। যথা; ‘ﺨﻠﺪ’ (খালাদা), ‘ﺴﻼﻡ’ (সালাম), ‘عدن’ (আদনা), ‘ﻔﺮﺪﻮﺱ’ (ফের্দাউস), ‘ﻘﺮﺍﺮ’ (ক্বারার), ‘مَأْوَىٰ’ (মা’ওয়া), ‘ﻧﻌﻴﻢ’ (না’ঈম) ও ‘ﻤﻜﺎﻦ’ (মাকান)। কিন্তু বাঙালী সুবিজ্ঞ আত্মজ্ঞানী মনীষীগণের মতে; স্বর্গ মোট ৩টি। যথা; ১.বৈচন ২.দৈহিকা ও ৩.মৈনাক।

অর্থাৎ; আত্মদর্শনের বাইরে স্বর্গ ও নরকের সন্ধান করা চরম বোকামি ও নির্বুদ্ধিতা বৈ নয়। সুখময় জীবনযাপন এবং সুখময় স্থান উভয়কেই শ্বরবিজ্ঞানে স্বর্গ বলা হয় কিন্তু স্বর্গ বলতে সাম্প্রদায়িক ধ্বজাধারীদের কবলে পতিত হয়ে সাত আকাশের ওপরে অবস্থিত সুরক্ষিত ও সুখময় স্থান বলে বুঝে থাকেন সাধারণ মানুষ। সাম্প্রদায়িক মনীষী ও বক্তারা তাদের কল্পিত এসব স্বর্গের ব্যাপারে আরও বলে থাকেন যে; “কেবল মরার পর ছাড়া উক্ত স্বর্গে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।” কিন্তু মূল বিষয় হলো; মরণ বলতে মৈথুনে জননপথে শুক্রপাতকে বুঝায়। এছাড়াও; পাকাগুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করাকেও মরা বুঝায়। সপ্ত স্বর্গ বলতে মানবের সপ্ত কর্মেন্দ্রিয় বুঝায়। কোনো পাকাগুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করলে গুরুদেব দয়া করে সপ্ত কর্মেন্দ্রিয়ের সঠিক ব্যবহার শিক্ষা দিয়ে থাকেন। সপ্ত কর্মেন্দ্রিয়ের অপব্যবহারেই উৎপন্ন হয় পাপ এবং পাপ হতে উৎপন্ন হয় অশান্তি। শ্বরবিজ্ঞানে; এ অশান্তিকেই নরক বলা হয়। গুরুদেবের নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে সুশিক্ষা ও সুব্যবহারের দ্বারা উক্ত সপ্ত কর্মেন্দ্রিয়ই সপ্তস্বর্গে পরিণত হয়। তারপর; অটল কৌশল অর্জনের পর জরায়ু নামক আরও একটি নতুন স্বর্গের সন্ধান পাওয়া যায়। তখন স্বর্গ হয় আটটি কিন্তু নরকসংখ্যা সাতটিই থেকে যায়। তাই; মুসলমান মনীষীগণ বলে থাকেন স্বর্গ আটটি কিন্তু নরক সাতটি।

উপরোক্ত আলোচনা হতে পরিস্কারভাবে বুঝা যায় যে; স্বর্গনির্মাণ নিতান্তই একটি শৈল্পিক বিষয়। আত্মতত্ত্বের সূত্র ও তথ্যাদির ওপর নির্ভর করে স্বর্গগুলো নির্মাণ করা হয়। ভারতীয় ও পারস্য শ্বরবিজ্ঞানীদের ৭টি স্বর্গ হলো; ১.হাত ২.পা ৩.চক্ষু ৪.জিহবা ৫.উপস্থ ৬.মন ও ৭.জ্ঞান। এ সাতটি ইন্দ্রিয় অশুচি, নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে এদেরকে নরক বলা হয়। কারণ; এ ৭টি ইন্দ্রিয় দ্বারা মানুষের যাবতীয় পাপকার্য সংঘটিত হয়। এদের দ্বারা পাপ কার্য সংঘটিত হয় বলেই এদেরকে নরক বলা হয়। আবার একজন পাকা সাধকগুরু বা পাকা সাধক গোঁসাইয়ের সাহচার্য গ্রহণ করে, এদের শুচি করলেই এদেরকে স্বর্গ বলা হয়। কারণ; পরিশুদ্ধ ইন্দ্রিয়াদি দ্বারা অনেক পুণ্যকাজ করা যায়। উক্ত ইন্দ্রিয়াদির দ্বারা পুণ্য কার্য সম্পাদন করা যায় বলেই এদেরকে স্বর্গ বলা হয়। উপরোক্ত ইন্দ্রিয়াদি পরিশুদ্ধি করার পর বৈকুণ্ঠ নামক আরও একটি গোপন দেশের সন্ধানলাভ করা যায়। এখানে; ৪টি পবিত্র রস পাওয়া যায়। যথা; ১.দুগ্ধ ২.শুক্র ৩.সুধা ও ৪.মধু। সিদ্ধির পর সাধকগণ বসে বসে এসব রস পান করে দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনলাভ করেন। এ স্বর্গটিসহ সাম্প্রদায়িক মুসলমানরা তাদের মোট ৮টি স্বর্গের বর্ণনা প্রদান করে থাকেন। বস্তুত মূল বিষয়টি হলো স্বর্গ বলি আর নরক বলি আত্মদর্শনের বাইরে কোথাও এদের অস্তিত্ব নেই। তাইতো; কবি জীবনানন্দ দাস লিখেছেন;

“কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর

মানুষেরই মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতেই সুরাসুর।”

পরিশেষে বলা স্বর্গ হলো শান্তি। শান্তিকেই বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষায় স্বর্গ বলা হয়। এছাড়াও; স্বর্গের অন্য কোনো অস্তিত্ব নেই। আরও বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের নির্মিত স্বর্গ-নরক গ্রন্থটি পড়ার অনুরোধ রইল।

সংস্কৃত বাংলা, গ্রিক ও আরবি স্বর্গপরিভাষাটির সুসামঞ্জস্য (Adjustment of Sanskrit, Bengali, Greek and Arabic Heaven terminology)

সংস্কৃত বাংলা ইংরেজি আরবি মূলক
স্বর্গ স্বর্গ Heaven (হেভেন) ‘جنات’ (জান্নাত) শান্তি
ভূর্লোক

পিতৃলোক

দ্যাবা দৈহিকা Eden (ইডেন)

World (ওয়ার্ল্ড)

‘عدن’ (আদনা)

‘عالم’ (আলম)

দেহ
ভুবর্লোক

রাসলোক

অলকা Dreamland (ড্রিমল্যান্ড) Ascender (এ্যাসেন্ডার) ‘ﻧﻌﻴﻢ’ (না’ঈম)

‘متفوق’ (মুতাফাওয়াক্ব)

আগধড়
স্বর্গলোক

সোমলোক

বৈকুণ্ঠ Olympus (অলিম্পাস)

Uterus (ইউটেরাস)

‘ﺴﻼﻡ’ (সালাম)

‘الرحم’ (আররেহেম)

জরায়ু
মহর্লোক

গন্ধর্বলোক

দ্যো Elysium (ইলিজিয়াম)

Cervix (সাভেক্স)

‘ﻘﺮﺍﺮ’ (ক্বারার)

‘دش’ (দাশশা)

ভৃগু
তপলোক

পিশাচলোক

দ্যু Zion (জাইওন)

Clay (ক্লে)

‘ﺨﻠﺪ’ (খালাদা)

‘صلصال’ (সালসাল)

নরদেহ
সত্যলোক

ব্রহ্মলোক

অমরা Paradise (প্যারাডাইজ)

Genitals (জেনিটাল্স)

‘ﻔﺮﺪﻮﺱ’ (ফের্দাউস)

‘عورة’ (আওরা)

উপস্থ
অলোক

যলোক

ব্রজ Utopia (ইউটোপিয়া)

Cake (কেক)

‘مَأْوَىٰ’ (মা’ওয়া)

‘كعكة’ (কা‘কা)

নারীদেহ
ব্যোম Eldritch (অ্যাড্রেস)

Levin (লেভিন)

‘معجز’ (মুয়াজিঝ)

‘صاعقة’ (সোয়ায়িক্বা)

জীবাত্মা
বৈচন Maxim (ম্যাক্সিম) ‘حكمة’ (হিকমা) ইঙ্গিত
মৈনাক Tacit (ট্যাসিট) ‘مضمر’ (মুদমার) ইঙ্গিত

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!