হরি

৪৮/১৭. হরি
Hoary (হোরি)/ ‘اشيب’ (আশিব)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পালনকর্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা সাঁই। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ফুল। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন স্বরূপ এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ সুধা। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত পালনকর্তাসৃষ্টিকর্তা ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তাবাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
হরি (বাপৌচা)বি. বিষ্ণু, নারায়ণ, চন্দ্র. চোর, তস্কর, হারক, অপহারক, অপহরণকারী, hoary, ‘اشيب’ (আশিব), cherisher, ‘مشرف’ (মুশারিফ) (প্র). নারায়ণের অন্য নামবিশেষ. বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; দৈত্যরাজ তাড়কাক্ষের পুত্র (শ্ববি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (রূপ্রশ) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (পারদে) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), (ইদে) মা’বুদ (.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (পরি) এমন তরল-মানুষ যে এখনও মূর্ত আকার ধারণ করে নি (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; নারায়ণকে হরি বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; মানবভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত পবিত্র জলকে হরি বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।

হরির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of hoary)
১.   “আমায় চরণ ছাড়া করো না, হে দয়াল হরি, পাপ করি পামরা বটে, দোষ দিই তোমারি।” (পবিত্র লালন- ১২২/১)
২.   “আল্লাহ হরি ভজন পূজন, এসব মানুষের সৃজন, অনামক অচেনায় কখন, বাগিন্দ্রিয় না সম্ভবে।” (পবিত্র লালন- ১১৫/৪)
৩.   “একটা নারকোলের মালা, তাতে জল তোলা ফেলা, করঙ্গ সে, আবার হরি বলে পড়ছে ঢলে, ধূলার মাঝে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৯/২)
৪.   “একি লীলা মানুষলীলা দেখি গোকুলে, হরি নন্দঘোষের দোষ মাথায় নিলে।” (পবিত্র লালন- ২০৯/১)
৫.   “ঐ গোরা কী শুধুই গোরা, ও গো নাগরী, দেখ দেখ, ঠাউরে দেখ কেমন গোরা শ্রীহরি।” (পবিত্র লালন- ২৩৮/১)
৬.   “ওগো রায়সায়রে এলো শ্যামরায়, তোরা ধর গো হরি ভেসে যায়।”
৭.   “কোন রসে প্রেম সেধে হরি, গৌরবর্ণ হলো সে, না জেনে সে প্রেমের অর্থ, প্রেম যাজন হয় কিসে।” (পবিত্র লালন- ৩৬৬/১)
৮.   “গোল করো না গোল করো না, ওগো নাগরী, দেখ দেখ ঠাওরে দেখ, কেমন গোরা ঐ হরি।” (পবিত্র লালন- ৪২৪/১)
৯.   “গোষ্ঠে চল হরি-মুরারী, লয়ে গোধন গোষ্ঠের কানন, চল গোকুল-বিহারী।” (পবিত্র লালন- ৪২৫/১)
১০. “প্রেম করা কী কথার কথা, প্রেমে মজে হরির গলে, ঝুলে চিন্তাকাঁথা।” (পবিত্র লালন- ৬৪০/১)
১১.  “বেদ পুরাণে হয় প্রচারি, যবনের সাঁই হিন্দুর হরি, তাও তো আমি বুঝতে নারি, দু’রূপ সৃষ্টি করলেন কী তার প্রমাণ।” (পবিত্র লালন- ৯১৯/৩)
১২.  “বেশ করে সে বৈষ্টমগিরি, রস নাই তার গুমান ভারী, হরিনামের ঢুঢু তারই, তিনগাছি জপমালা।” (পবিত্র লালন- ৬৪৪/২)
১৩. “মরাগৌর স্বয়ং কারে, কী শিক্ষায় বলি, গৌর বলে হরি বলতে, শুনতে পাই সকলি।” (পবিত্র লালন- ৭৬৮/১)
১৪. “সইতে যদি না পারি, ভিক্ষার ছলে বলবো হরি, এ বাসনা মনে করি, বলবো নাম ঠাঁই অঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৮৮/২)
১৫. “সে যে আত্মা রূপে কর্তাহরি, মনে নিষ্ঠা হলেই মিলবে তারই, ঠিকানা, বেদ বেদান্ত পড়বি যতরে, বাড়বে ততো ভাবনা।” (পবিত্র লালন- ২৫৭/৩)
১৬.  “হরি কোনটি তোমার আসল নাম, শুধাই তোমারে, কোন নাম ধরে ডাকলে দয়াল, পাব তোমারে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৪/১)
১৭. “হরি নামের তরণী লয়ে, ফিরছে নিতাই নেয়ে হয়ে, এমন দয়ালচাঁদকে পেয়ে, শরণ কেন নিলে না।” (পবিত্র লালন- ৫১৪/৩)
১৮. “হরি বলে হরি কাঁদে কেনে, ধারা বহে দুই নয়নে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৬/১)

হরির সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of hoary)
১.   “আদিতে একা ছিলি হরিরূপ ধরি, দ্বাপরে হলো কবন্ধ ধনুকধারী, ত্রেতায় ননিপুর বংশীধারী, তারপর; আকার পেলি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৩)
২.   “আসতে কাঁটা যেতে কাঁটা, গৌরহরির পিছলঘাটা, দোধারে যায় মাথা কাটা, লালন কয় কারে বলবো কী।” (পবিত্র লালন- ২১০/৩)
৩.   “উপদেশে গোল যদি রয়, কী ভেবে কী করে যায়, গোলে হরি বললে কী হয়, লালন ভেবে পায় না দিশে।” (পবিত্র লালন- ৫৮৫/৪)
৪.   “এখন বলো কোথায় হরি, এনে দাও গো সহচরী, তখন যে সাধলাম প্যারী, তা কী তুমি জানো না।” (পবিত্র লালন- ৩০৬/৩)
৫.   “এ ভাব সম্ভব নয়, দেখে লাগে ভয়, চণ্ডালেরে প্রভু আলিঙ্গন দেয়, নাই জাতির বোল বলে হরিবোল, বেদ পুরাণ সব দোষিলে।” (পবিত্র লালন- ৪২৬/৩)
৬.   “ওপরওয়ালা সদরবাড়ি, আত্মা রূপে কর্তাহরি, মনের ঘোরে চিনতে নারি, কিসে কী হয়।” (পবিত্র লালন- ১১৭/২)
৭.   “কী ছার কুলের গৌরব করি, অকূলের কূল গৌরহরি, এ ভবতরঙ্গের তরী, আমার গৌরগোঁসাই।” (পবিত্র লালন- ৮০৮/৩)
৮.   “কোথায় আমার দয়াল দরদী, ব্রজহরি গোরা গোঁসাই, কোন সাধনে পাব তারে, বিনয় করে জানতে চাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৩)
৯.   “কোথায় দয়াল হরি, আপনি এসে হও কাণ্ডারী, তোমায় স্মরণ করি- ভাসালাম ভবতরী, লালন কয় যেন বিপাকে না মরি।” (পবিত্র লালন- ১২৬/৪)
১০. “কোথায় দয়াল কোথায় হরি, এক দিনও খোঁজ না করি, বলন কয় ভুরিভুরি, উপাসনায় দয়াল নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৬)
১১.  “কোথায় যাই কিবা করি, সবাই বলে গোলে হরি, লালন কয় জানতে নারি, তাইতো; বেড়ায় ভেসে ভেসে।” (পবিত্র লালন- ৮০৪/৩)
১২.  “কোন প্রেমে মা কালী, পদতলে করে মহেশ্বর বলি, লালন বলে ধন্য দেবী, জয় জয় হরি।” (পবিত্র লালন- ৬৫০/৪)
১৩. “গভীর প্রেমরাগ দেখে, হরি দিলো দাসখত্ব লিখে, ষড়ৈশ্বর্য ফেলে রেখে, কাঙাল হয়ে ফিরে নদীয়ায়।” (পবিত্র লালন- ৬৪৩/২)
১৪. “গয়া কাশী বৃন্দাবনে, হরি পেলে কেউ ফিরত না রে, গির্জাগৃহে গড পেলে, খ্রিস্টানেরা ভুলত না রে, লালন বলে থাকলে গুরুর চরণতলে, পাবিরে নিরঞ্জন।” (পবিত্র লালন- ১০৩/৩)
১৫. “গুড় বললে কী মুখ মিঠা হয়, দীপ না জ্বাললে আন্ধার কী যায়, তেমনই, দেখ হরি বলায়, হরি কী পাবে।” (পবিত্র লালন- ৫৮৬/২)
১৬.  “গোপীভাব সামান্য বুঝে, হরিকে না পেল খুঁজে, শ্রীনারায়ণী গৌরী, লালন কয় এমন- আছে কতজন, বলতে হয় দিন আখিরি।” (পবিত্র লালন- ৫৫৮/৪)
১৭. “গোলকের অটলহরি, ব্রজপুরে হয় বংশীধারী, নদীয়া ধামেতে অবতারী, দয়াল বামন রূপে প্রকাশে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৬/২)
১৮. “গোলে হরি বললে কী হয়, নিগূঢ়-তত্ত্ব নিরালা পায়, নীরে ক্ষীরে যুগলে রয়, (সাঁইয়ের) বারামখানা সেখানে।” (পবিত্র লালন- ৭০২/৩)
১৯.  “ঘর ছেড়ে জঙ্গলে যায়, তাতে কী সে হরিকে পায়, তবে বনের পশুকে ভাই, কেন করি দোষী।” (পবিত্র লালন- ৮১০/২)
২০. “চামকুঠরী নিতাইপুরী, বিষ্ণু রাসুল সাঁই নাম ধরি, ত্রিলোচনী সাজে হরি, দেহধামে দেখতে পাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৩)
২১.  “জাত না দিলে পাই না হরি, কী ছার জাতির গৌরব করি, ছুঁসনে বলিয়ে, লালন বলে- জাত হাতে পেলে, পুড়াতাম আগুন দিয়ে।” (পবিত্র লালন- ২০১/৪)
২২. “তিনরসে প্রেম সাধলে হরি, শ্যামাঙ্গে গৌরাঙ্গ তারই, লালন বলে বিনয় করি, সে রসে প্রেমরসিক খেলে।” (পবিত্র লালন- ৪৭০/৪)
২৩. “ত্রিজগতের চিন্তা শ্রীহরি, রাধার চিন্তায় পড়লেন ব্রজহরি, বড় অসম্ভাব বচন- ভেবে কয় লালন, রাধার দাসখত্বে শ্যাম বিকালে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/৪)
২৪. “ধন্য তোর বুকের জোর, কাঁদাও জগদীশ্বর, করে মান জারি, এর প্রতিশোধ নিবেন, শ্রীহরি।” (পবিত্র লালন- ৫৯৮/২)
২৫. “ধন্য পিতা বলি তারই, ঠাকুর জগন্নাথ মিশ্রী, যার ঘরে গৌরাঙ্গ হরি, মানুষ রূপে জন্ম নিলে।” (পবিত্র লালন- ৫৫৯/৩)
২৬. “ধন্য ভাব গোপীভাব, আহা মরিমরি, যাতে বাঁধা ব্রজের শ্রীহরি।” (পবিত্র লালন- ৫৫৮/১)
২৭. “ধন্যরে ভারতী যিনি, সোনার অঙ্গে দেয় কোপনি, শিখাল হরিধ্বনি, করেতে করঙ্গ নিলে।” (পবিত্র লালন- ৫৫৯/২)
২৮. “ধেনু রাখতে মোদের সাথে, আবাই আবাই ধ্বনি দিতে, এখন এসে নদীয়াতে, হরির ধ্বনি দিস এ ভাব কী।” (পবিত্র লালন- ৫১৬/৩)
২৯. “পরশখানা ছিল আসল, সে জায়গায় বাঁধল গোল, লালন বলে গোলে হরিবোল, বললে কী মর্ম পায়।” (পবিত্র লালন- ৮৭৯/৪)
৩০. “পরে গোলোকে পরমপুলকে, সদাই বলে মনের সুখে, সে মহারসের ধনী বিনোদিনী, লালন বলে সে হরি নন্দের কানাই।” (পবিত্র লালন- ৪৯৭/৪)
৩১. “বর্তমানে তারে দেখ ধরি, নরদেহ হয় অটলবিহারী, মরো কেন বলে হরি, কাঠের মালা টিপে হায়রে।” (পবিত্র লালন- ৯০৭/৩)
৩২. “বৃন্দাবনের কানাই বলাই, ব্রজধামে গৌর নিতাই, ধরতে গেলে দেয় না ধরা কৃষ্ণ হরি দয়াময়, ব্রহ্মাণ্ড যার ভাণ্ডে রয়, সেকি ভুলে দই চিড়ায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬১/২)
৩৩. “বেদে যা নাই তাই যদি হয়, পুথি পড়ে কেন মরতে যায়, লালন বলে ভজব সদাই, ঐ গৌরহরি।” (পবিত্র লালন- ৪২৪/৪)
৩৪. “ভজন সাধন না জানি, কোথায় পাই সহজ অযোনি, বেড়াই গোলে হরিবোল বলে, ওরে গোলে হরিবোল বলে।” (পবিত্র লালন- ৭৮৫/৩)
৩৫. “ভাল মন্দ যত করি, তথা প্রেমদাস তোমারি, লালন বলে মরিমরি, হরির এ কী ঋণ স্বীকার।” (পবিত্র লালন- ৬৬০/৪)
৩৬. “মক্কার ঘরের মধ্যে শুনি, একজন দেয় শিঙ্গায় ধ্বনি, কী নাম তার নাহি জানি, ক্ষণেক বলে হরিবোল।” (পবিত্র লালন- ৫৯৭/৩)
৩৭. “মন না মুড়িয়ে কেশ মুড়ালে, তাতে কী রতন মিলে, মন দিয়ে মন- বেঁধেছে যেজন, তারই কাছে বাঁধা হরি।” (পবিত্র লালন- ৪৩০/৩)
৩৮. “মুখে বলে হরি হরি, নয়নে বইছে বারি, তার ঢলঢল তনুতরী, বুঝি পড়া মাত্র যায় মরে।” (পবিত্র লালন- ৫৬২/৩)
৩৯. “যতশত মনে করি, মনের ধোঁকায় ঘুরে মরি, কোথায় রইলে দয়াল হরি, ফিরে কেন চাইলে না।” (পবিত্র লালন- ৯৩১/২)
৪০. “যদি কেউ হয় চক্ষুষ্মান, সে দেখে সে রূপ বর্তমান, লালন কয় তার জ্ঞান-ধ্যান, হরি দেখার পুঁতিমালা।” (পবিত্র লালন- ৩৪৪/৪)
৪১. “যেজন দেখে সে রূপ, করে চুপ রয় নিরালা, লালন ভেড়োর লোক জানানো, মুখে হরি বলা।” (পবিত্র লালন- ৮৭/৪)
৪২. “রাই প্রেমের তরঙ্গ ভারী, লালন বলে আহা মরি, হরি আর সাঁইয়ের মাঝে, কোন তফাৎ নাই।” (পবিত্র লালন- ৪৯৫/৪)
৪৩. “রাই সাগরের তরঙ্গ ভারী, ঠাঁই দিতে পারবেন কী শ্রীহরি, ছেড়ে রাজত্ব- প্রেমের উদ্দেশ্য, ছিন্নকাঁথা জড়ে গায়।” (পবিত্র লালন- ২৪৬/২)
৪৪. “রাখালের উচ্ছিষ্ট খায়, একদিন ব্রহ্মা দেখতে পায়, তাইতো; রুষ্ট হয়ে ভারী- না চেনে হরি, ধেনুবৎস হরে লয়ে যায় পাতালে।” (পবিত্র লালন- ২০৯/২)
৪৫. “রাধার প্রেমে থেকে হরি, হয়েছিল দণ্ডধারী, এসে এ নদীয়াপুরী, বেহাল হয়ে মুড়ালেন মাথা।” (পবিত্র লালন- ৬৪১/২)
৪৬. “রাম নারায়ণ গৌরহরি, ঈশ্বর যদি গণ্য করি, তারাও জীবের বংশধারী, এ সংসারে হয় কেমনে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৪/২)
৪৭. ‘“শ্যামাঙ্গে গৌরাঙ্গ মাখা, নয়ন দুটি বাঁকা, মনে যেন দিচ্ছে দেখা, ব্রজের হরি।” (পবিত্র লালন- ২৩৮/২)
৪৮. “সখ্য শান্ত দাস্য প্রেমে, বাৎসল্য আর মধুর প্রেমে, পঞ্চতত্ত্ব পঞ্চপ্রেমে, বচ্ছে শতধারা, ঘটা হয়ে মাতোয়ারা, পঞ্চানন খায় ধুতরা, মুখে বলে রাম হরিরাম, ঐ প্রেমের প্রেমিক যারা।” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/২)
৪৯. “সত্যযুগে ছিলেন হরি, দ্বাপরে রাম ধনুকধারী, ত্রেতায় কৃষ্ণ বংশীধারী, লালন কয় কলিতে হচ্ছে লীলা, নিত্যকথা কেউ কয় না।” (পবিত্র লালন- ২৪৮/৩)
৫০. “সবে বলে অটলহরি, সে কেন হয় দণ্ডধারী, কিসের অভাব তারই, ঐ ভাবনা ভেবে ঠিক না মিলে।” (পবিত্র লালন- ৩৪৫/৩)
৫১. “সহজ সংস্কার না জানি কোথায় পাই, সহজ সাধন কোথায় আমি কোথায়, না জেনে ঘুরে বেড়াই, গোলে হরিবোল বলে।” (পবিত্র লালন- ৮২/৩)
৫২. “সামান্য জ্ঞানে কী তাঁর, মর্ম জানা যায়, যে ভাবে অটরহরি এলো নদীয়ায়।” (পবিত্র লালন- ৯৪৩/১)
৫৩. “সে ধন পড়লে কী মিলে, হরি ভক্তের অধীন কালে কালে।” (পবিত্র লালন- ৯৬৩/১)
৫৪. “হরিনাম যত্ন করে হৃদয় মাঝে, রাখরে মন, ও নাম গলত্ব করলে হারিয়ে যাবে, হরি বলা অকারণ।” (পবিত্র লালন- ৯৮৫/১)
৫৫. “হরি নামের তরণী তার, রাধা নামের বাদাম যার, ভবতুফান বলে ভয় কিরে তার, সে নায়ে উঠে।” (পবিত্র লালন- ৬২৯/২)
৫৬. “হরি বলে গৌররায় প্রেমাকুল হয়, নয়নের জলে বদন ভেসে যায়, দেখে তার দশা সবাই, কেঁদে এ জগৎ কান্দালে।” (পবিত্র লালন- ৪২৬/২)
৫৭. “হরি হরি বলবো কারে, হরি চিনব কেমন করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০৬)

হরণ অর্থে হরিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology hoary sense for detraction)
১.   “দেবের দুর্লভ গোপাল, ব্রহ্মা তার হরিল গো-পাল, লালন বলে গোপাল, কীর্তি গোপাল করল শুনি।” (পবিত্র লালন- ৪৫০/৪)
২.   “নিকটে বিকট করছে গমন, দাঁড়িয়ে আছে হরিতে জীবন, মানবে না কারো বারণ, কেশ ধরে লয়ে যাবে সঙ্গে।” (পবিত্র লালন- ২৬২/২)

হরির ওপর কয়েকটি পূর্ণ লালন (Some full Lalon on the hoary)
.                 তুমি যাবে কী না যাবে হরি,
            জানতে এসেছি তাই,
ব্রজ হতে তোমায় নিতে,
পাঠিয়েছে রাই।

শাল পাগড়ি মাথায় দিয়ে,
মথুরাতে রাজা হয়ে,
তুমি আছ ভুলে কুব্জারে পেয়ে,
শ্রীরাধার কথা মনে নাই।

আমি বৃন্দে নামটি ধরি,
তুমি যাবে কিনা যাবে হরি,
তোমার হাতে দিয়ে প্রেমডুরি,
বেঁধে নিব হায়।

রাই প্রেমের তরঙ্গ ভারি,
লালন বলে আহা মরি,
হরি আর সাঁইয়ের মাঝে,
কোন তফাৎ নাই।” (পবিত্র লালন- ৪৯৫)

.                 হরি কোনটি তোমার আসল নাম,
শুধাই তোমারে,
কোন নাম ধরে ডাকলে দয়াল,
পাব তোমারে।

তুমি চৈতন্য রূপে রও চুপে চুপে,
কিংবা তুমি নীর আকারে রও অন্ধকূপে,
আমি জানতে পারলে,
সেবাদাসী হব হরি এবারে।

তুমি অযোধ্যায় রাম বৃন্দাবনে শ্যাম,
সর্বমুখে শুনি তুমি গুণধাম,
কোন নামে রও অধর হয়ে,
কোন নামটি ভক্তের দ্বারে।

তুমি কোন ভাবেতে কোন ধন
তোমার নামের কোন গুণ,
তুমি কোন আশ্রয়ে নিজরূপ
প্রকাশ করো ঘরে ঘরে।

তুমি হরি দয়াল গোঁসাই,
কোথাও নীর আকার কোথাও কানাই,
লালন বলে কাতর দিলে,
কোন নামে রও আমার তরে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৪)

.                 হরিনাম যত্ন করে হৃদয় মাঝে,
            রাখরে মন,
ও নাম গলত্ব করলে হারিয়ে যাবে
হরি বলা অকারণ।

নিজ হরি নাম করে খাঁটি,
হিংসা নিন্দা দাও গো মাটি,
হও নির্বিকার পরিপাটি,
পাবে হরির দরশন।

হরির সঙ্গে করো যদি ভাব,
দিও না কথার জবাব,
থাকবে না আর পারের অভাব,
গোলকপুরে হয় গমন।

লোক দেখিয়ে হরি বলা,
ভজন সাধন হয় ঘোলা,
লালন বলে রঙ মাখানো মালা ঝোলা
গলায় রাখ কী কারণ।” (পবিত্র লালন- ৯৮৫)

.                 হরি বলে হরি কাঁদে কেনে,
            ধারা বহে দুই নয়নে।

হরি বলে হরি গোরা,
নয়নে বয় জলধারা,
কী ছলে এসেছে গোরা,
এ নদীয়া ভুবনে।

আমরা যত পুরুষ-নারী,
দেখতে এসেছি হরি,
হরিকে হরিল হরি,
সে হরি কোনখানে।

গৌরহরি দেখে এবার,
কত পুরুষ-নারী ছাড়ল ঘর,
হরি কী করে এবার,
লালন ভাবে মনে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৬)

হরির সংজ্ঞা (Definition of hoary)
সাধারণত; নারায়ণকে হরি বলে।

হরির আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of hoary)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মানবভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত পবিত্র জলকে হরি বলে।

হরির প্রকারভেদ (Variations of hoary)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; হরি দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান হরি ও ২. উপমিত হরি।

. উপমান হরি (Analogical hoary)
সাধারণত; নারায়ণকে উপমান হরি বলে।

. উপমিত হরি (Compared hoary)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মানবভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত পবিত্র জলকে উপমিত হরি বলে।

বড় হাস্যকর বিষয় (Stars ridiculous topics)
বড় হাস্যকর বিষয় হলো বাংলা একাডেমীর ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (৭ম পুণর্মূদ্রণ: জৈষ্ঠ ১৪১২/জুন ২০০৫, পৃষ্ঠা- ১১৯৪) এ লেখা হয়েছে;

হরি [হোরি] বি ১. হিন্দুদেবতা বিষ্ণু, নারায়ণ, কৃষ্ণ, যম, ২. সূর্য ৩. চন্দ্র ৪. বায়ু ৫. সিংহ ৬. অশ্ব ৭. পশু ৮. বানর ৯. ময়ুর ১০. কোকিল, পিক ১১. সর্প ১২. ভেক; ব্যাঙ, মণ্ডুক ১৩. কিরণ ১৪. হংস ১৫. সবুজবর্ণ ১৬. পিঙ্গলবর্ণ এবং ১৭. ধান্যবিশেষ।

পর্যালোচনা (Review)
পুরাণ ও বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা না জানা অর্থাৎ; আত্মদর্শন না জানার কারণে অভিধানবিদরা পরিভাষাটির ১৭টি অভিধা প্রণয়ণ করেছেন। কিন্তু মাত্র দুটি হয়েছে। যথা; বিষ্ণু ও নারায়ণ। আর অবশিষ্ট ১৫টি হয় নি। এবার কথা হলো স্বয়ং অভিধানবিদদের ব্যাপারেই যদি এমন মহাবিভ্রান্তি ও বিভ্রম ঘটে তবে সাধারণ সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকদের অবস্থা কী? এছাড়াও; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, আলোচক ও অনুবাদকদের অবস্থাইবা কী?

আমরা পূর্বেও বলেছি এবং এখনও বলছি। আত্মতত্ত্ব বা আত্মদর্শন না জেনে ও না বুঝে পবিত্র বেদ, ত্রিপিটক, তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান, জেন্দাবেস্তা, জ্ঞান-সাহেব, লালন, জালাল ও বলন এর মতো মহা গ্রন্থাদির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুবাদ, অভিধান প্রণয়ন ও মন্তব্য লেখতে আরম্ভ করা বোকামির নিম্নস্তর বৈ নয়। যারা করেছেন, করছেন ও করবেন তারা সম্পূর্ণই অন্যায় করেছেন, করছেন ও করবেন। এমন করলে; সে নিজেও যেমন চরম পথভ্রষ্ট; তেমনই; পুরো জাতিকেই পথভ্রষ্ট করল। কথায় বলে; “কামারের কাজ কুমোরকে দিয়ে হয় না।”

এবার শক্ত করেই বলা যায়; পবিত্র বেদ, ত্রিপিটক, তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান, জেন্দাবেস্তা, জ্ঞান-সাহেব, লালন, জালাল ও বলন অত্যন্ত উচ্চমার্গের শ্বরবিজ্ঞান। সেজন্য; এসব গ্রন্থের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুবাদ, অভিধান প্রণয়ন ও মন্তব্য লেখতে হলে অবশ্যই আত্মজ্ঞানী বা আত্মতত্ত্ববিদ হতে হবে। আত্মদর্শন না জেনে ও না বুঝেই যারা উক্ত গ্রন্থাদির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুবাদ, অভিধান প্রণয়ন ও মন্তব্য লেখতে গেছে, যাচ্ছে ও যাবে তারাই অনধিকারচর্চাকারী বলে গণ্য হবে। আত্মদর্শনহীন বা আত্মতত্ত্ব জ্ঞানহীন সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, আলোচক, প্রচারক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকদের দ্বারা নির্মিত অনুবাদগ্রন্থ, ব্যাখ্যা গ্রন্থ ও টীকা পুস্তক-পুস্তিকা পাঠ করেই সৃষ্টি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িক সাম্প্রদায়িকতা (ধর্মীয় সন্ত্রাস, ধর্মীয় উগ্রবাদ, ধর্মীয় আতঙ্কবাদ)

এমন বলার উদ্দেশ্য হলো; দেশের বরেণ্য অভিধাবিদদের দ্বারা যে অভিধান সংকলন করানো হয়েছে। সে অভিধানের মধ্যেই যদি ‘হরি’ পরিভাষাটির এমন নাজুক অবস্থা হয়। তবে; অন্যান্য পরিভাষার অবস্থা পাঠককুলের বিচারের ওপর ছেড়ে দিলাম।

সমাধান (Solution)
“আমরা যা করি সবই করে হরি।” “আল্লাহ বলে মারব লাফ যা করে হরি।” “হরি বোল হরি বোল।” এসব বাক্য দ্বারা কোন সত্তাকে বুঝানো হয়েছে? সে সত্তার অবস্থান ও অবস্থিতি কোথায় ও কিরূপে? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রদানের জন্য সর্বপ্রথম হরিরূপ বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাটির প্রপক জানতে হবে। অতঃপর; বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা, বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা, বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাবাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা অবশ্যই জানতে হবে।

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy)
(প্রপক) ১ (Extensive)- 1

নারায়ণের অন্য নাম ছিল হরি।

(প্রপক) ২ (Extensive)- 2
বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; দৈত্যরাজ তাড়কাক্ষের পুত্র ছিল হরি।

একবার হরি অত্যন্ত কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করে বরলাভ করেছিলেন। এ বরের প্রভাব দ্বারা ত্রিপুরে মৃতসঞ্জীবনী সরোবর নির্মাণ করেছিলেন। এ সরোবরের এমন গুণ ছিল যে; এর মধ্যে মৃত-দৈত্যসৈন্য নিক্ষেপ করলে তারা পুনর্জীবিত হয়ে ফিরে আসত। (পৌরাণিক অভিধান)

শ্বরবিজ্ঞানের রূপক বর্ণনা হলো উপরোক্ত প্রপকদ্বয় হলো। আর সাহিত্যের রূপক বর্ণনাকেই (মিথোলজি) বলে। সেজন্য; আমরা ওপরের বর্ণনাকে বলবো mythology এটি; mythology হলে অবশ্যই এর theology আছে। নিচে উপরোক্ত myth দ্বয়ের theology বর্ণনা করা হলো।

আত্মদর্শন  (Theosophy)
এখানে; নারায়ণ হলো দেহের অমৃত। অর্থাৎ; পবিত্র মানবজল। বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষায় একে সাঁই বলা হয়। প্রপক এক (১) অনুসারে।

এখানে; ব্রহ্মা হলেন স্বয়ং কাঁই। ত্রিপুর হলো জরায়ু। জরায়ু হতে লাল, সাদা ও কালো এ তিনটি ধারা প্রবাহিত হয় বলে শ্বরবিজ্ঞানে একে ত্রিপুর বলা হয়। এ জরায়ুকেই মৃতসঞ্জীবনী সরোবর বলা হয়। উল্লেখ্য যে; শ্বরবিজ্ঞানে শুক্রপাত করাকে মরা বা মৃত্যুবরণ করা বলা হয়। আর মানুষকেই রাক্ষস, দৈত্য ও দানব বলা হয়। এ সূত্র ধরে বলা যায়- অলৌকিক সরোবরে মৃত-দৈত্যসেনা নিক্ষেপ করার অর্থ হলো; দম্পতি মৈথুনে রতো হয়ে জননপথে শুক্র নিক্ষেপ করা। অতঃপর; পুনর্জীবিত হয়ে ফিরে আসার অর্থ হলো; দশ মাস পরে মানবসন্তান রূপে জন্মগ্রহণ করা। এবার আমরা বলতে পারি শুক্র নিক্ষেপ করার পর, প্রসব হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গর্ভের মধ্যে মানবভ্রূণ যে ঐশি দেবতা লাপলপালন করার গুরু-দায়িত্ব পালন করে থাকেন তিনিই হলেন লালন। আর শ্বরবিজ্ঞানে; এ লালনকেই ‘হরি’ বলা হয়। ভারতবর্ষের অধিকাংশ মানুষ এখনও অক্ষরজ্ঞানহীন। জ্ঞান তো আরও দূরের ব্যাপার। এ উপমহাদেশের কী সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, কী বক্তা, কী ব্যৈখ্যিক, কী টৈকিক, অভিধানবিদ আর কী অনুবাদক; না জানে উপমিতি, না জানে আত্মদর্শন, না জানে রূপক-সংখ্যাতত্ত্ব, আর না জানে খাস্তবাদ।

এর আরও একটি তাত্ত্বিক প্রমাণ আছে। তা হলো; এ দেবতা দেহের মধ্যে হরের (চোর) মতো আত্মগোপন করে অবস্থান করে বলেই শ্বরবিজ্ঞানে একে হর বা হরি বলা হয়। সমাধানের যবনিকায় এসে বলতে চাই হর বা হরি হলেন জীবের পালনকর্তা। যাকে বাংলা ভাষায়- ‘ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও স্বরূপ’ ইত্যাদি বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় Hoary, Cherisher, God, nectar, elixir ইত্যাদি বলা হয়। এবং আরবি ভাষায় ‘اشيب’ (আশিব), ‘مشرف’ (মুশারিফ), ‘ﻤﻌﺑﻭﺪ’ (মা’বুদ), ‘ﻤﺤﻤﺪ’ (মুহাম্মদ), ‘رَسُول’ (রাসুল), ‘ﻜﻭﺛﺮ’ (কাওসার), ‘ﻔﺭﺍﺖ’ (ফুরাত) ইত্যাদি বলা হয়। এবং ফার্সি ভাষায় ‘ﺨﺪﺍ’ (খোদা) বলা হয়। কিন্তু আত্মদর্শন না জেনে ও না বুঝে অভিধানবিদরা “১. হিন্দুদেবতা বিষ্ণু, নারায়ণ, কৃষ্ণ, যম ২. সূর্য ৩. চন্দ্র ৪. বায়ু ৫. সিংহ ৬. অশ্ব ৭. পশু ৮. বানর ৯. ময়ুর ১০. কোকিল, পিক ১১. সর্প ১২. ভেক; ব্যাঙ, মণ্ডুক ১৩. কিরণ ১৪. হংস ১৫. সবুজবর্ণ ১৬. পিঙ্গলবর্ণ এবং ১৭. ধান্যবিশেষ।”; এসব বলেছেন। তারা একান্ত অনুমানের ওপর আবোলতাবোল বলতে আর বাদ রাখে নি। তারা তো অভিধানাবিদ! তারা যদি ‘হরি’ পরিভাষাটির অভিধা; যমুনাব্রিজ, পদ্মাব্রিজ, শাহবাগের যাদুঘর, লালনসেতু, হাদিকাতুল হাইওয়ান (কুলায়িকা) ও গুলিস্তানের কামান এসবও বলে থাকেন তাদের ভুল ধরবে কে? প্রায় দেড়শত বছর পূর্বে লালন সাঁইজি বলে গেছেন; “এসব দেখি কানার হাটবাজার, বেদবিধির ’পর শাস্ত্রকানা, আরেক কানা মন আমার।” (পবিত্র লালন- ২৩১/১)। পরিশেষে বলা যায়; যেমন; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক দিশারীরাও কানা, তেমনই; তার অনুসারীরাও কানা।

একটি ছোটকি (A shortish)
একবার এক আল্লাহভক্ত বড় রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে বসে বিশ্রাম করছিল। এমন সময় অন্য গ্রামের এক হরিভক্ত ঐ গাছেন নিচে বিশ্রাম করতে এলো। তখন আল্লাহভক্ত বলে উঠল “নাউযুবিল্লাহ নাউযুবিল্লাহ তুই কাফির।” তুই এ গাছের নিচে বসবি না। তখন হরিভক্ত লোকটিও ঠাস করে বলে দিলো “হরিবল হরিবল তুই তো যবন।” তারপর; সে আরও বলল এই গাছটি কী তোর বাবার, এ রাস্তাটা কী তোর বাবার, নাকি এ গাছ ও রাস্তাটা তোর আল্লাহর? তখন আল্লাহভক্ত বলে উঠল- “হ্যাঁ। এ গাছ ও রাস্তা আমার আল্লাহর সৃষ্টি। এসব কেবল আল্লাহর।” তারপর; হরিভক্ত বলল “আরে ব্যাটা বোকা পাঁঠা কেবল গাছ ও রাস্তাই নয়, চোখে যা দেখা যায় আর যা দেখা যায় না সবই আমার হরির সৃষ্টি। এসব আমার হরির।”

এমন আলোচনা করতে করতে ক্রমে ক্রমে তারা সাম্প্রদায়িক কুতর্কে জড়িয়ে পড়ল। এক পর্যায়ে তারা ধাক্কাধাক্কিও আরম্ভ করল। আল্লাহভক্ত বলে কথা একটাই যে; “আমার আল্লাহ বড়।” অন্যদিকে; হরিভক্ত বলে কথা একটাই যে; “আমার হরি বড়।” তাদের সাম্প্রদায়িক কুতর্ক ও ধাক্কাধাক্কি দেখে পথের অনেক লোক জড়ো হয়ে গেল। কেউ তো তাদের থামাতে পারছে না। এমন সময় ঐ পথ দিয়ে এক টেটন যাচ্ছিল। টেটন তাদের ব্যাপারটা আগেই অনুধাবন করে ফেলেছিল। লোক ঠেলে ভিতরে ঢুকে টেটন বলল “আমি মীমাংসা দেব যদি তোরা উভয়ে এ জনসম্মুখে আমার মীমাংসা গ্রহণ করবি বলে দিব্যি করিস।” অন্য একজন বলল “টেটনদা, তোমার জন্যই মীমাংসা হচ্ছে না। তুমি ছাড়া কেউ এর সমাধান করতে পারবে না। আমরা সবাই তোমার মীমাংসা গ্রহণ করব।” তখন তারা উভয়ে টেটনের মীমাংসা গ্রহণ করব বলে সর্বসম্মুখে দিব্যি করল।

এবার টেটন বলল, “এই যে গাছ, আর ঐ যে মগডাল, ঐ মগডালে ওঠে তুমি আল্লাহ বলে লম্ফ দিবে, আর তুমি হরি বলে লম্ফ দিবে। তারপর; দুই জনেই এখানে আসবে। যে দৌড়ে আসতে পারবে তার স্রষ্টা বড়।” একজন বলল, “কে আগে লম্ফ দিবে?” তারপর; সবাই মিলে লটারি করল। লটারিতে হরি ভক্তের নাম উঠল। কথামতো; হরিভক্ত গাছের মগডালে ওঠে, হরিবল-হরিবল বলে লম্ফ দিয়ে গাছের গোড়ায় দৌড়ে এলো। এবার আল্লাহ ভক্তের পালা। আল্লাহ ভক্ত মনে মনে ভাবলে লাগল এত উঁচু গাছ, শালা লম্ফটা দিলো কিভাবে? তারপর; আবার দৌড়ে গাছের গোড়ায় এলো! তবে; আল্লাহ বড় নাকি হরি? লোকজনে বলতে লাগল “যাও, গাছে ওঠ। কালবিলম্ব করবে না।”

নিরুপায় হয়ে আল্লাহ ভক্ত মনে মনে স্থির করল। আল্লাহও বড় হতে পারে! আবার হরিও বড় হতে পারে! তাই; আমি আল্লাহ-হরি দুই জনেরই নাম বলবো। অর্থাৎ; আল্লাহ বলে মারব লম্ফ, যা করে হরি। অবশেষে; আল্লাহ ভক্ত ভয়ে ভয়ে গাছে ওঠে, চিৎকার দিয়ে মুখে “ইয়া আল্লাহ বলে, মনে মনে বলল ‘ইয়া হরি’।” তারপর; লম্ফ দিয়ে মাটিতে পড়ে, ওঠে আর দাঁড়াতে পারল না। লোকজন হো হো করে বলে উঠল হরি বড় হরি বড়।

অনুরূপভাবে বলা যায়; এদেশের অভিধানবিদদের একটা অভিধা বললে অভিধান ভালো হয় না। তাই; তারা হরির ১৭টি অভিধা লিখেছে। কিন্তু মাত্র দুটি হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫টিই হয় নি। এখানে; এ ছোটকিটি বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে। এখানেও; সৃষ্টিকর্তা বা জগৎকর্তাকে হরি বলা হয়েছে। শ্বরবিজ্ঞানের অনেক স্থানে সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তাকে একই পরিভাষা দ্বারা বুঝানো হয়। যেমন; ঈশ্বর। ঈশ্বর অর্থ সৃষ্টিকর্তাও হয় আবার পালনকর্তাও হয়। পরিশেষে বলতে চাই; আলোচ্য হরি হচ্ছে সারা জগতের পালনকর্তা। আর জগতের পালনকর্তাকে বাংলা শ্বরবিজ্ঞানে বিষ্ণু, নারায়ণ, হরি, রাম; ইংরেজি শ্বরবিজ্ঞানে Hoary, Cherisher, God, nectar & elixir; আরবীয় শ্বরবিজ্ঞানে; ‘ﺨﺪﺍ’ (খোদা) এবং আরব্য শ্বরবিজ্ঞানে; ‘اشيب’ (আশিব), ‘مشرف’ (মুশারিফ), ‘ﻤﻌﺑﻭﺪ’ (মা’বুদ), ‘ﻤﺤﻤﺪ’ (মুহাম্মদ), ‘رَسُول’ (রাসুল), ‘ﻜﻭﺛﺮ’ (কাওসার) ও ‘ﻔﺭﺍﺖ’ (ফুরাত) ইত্যাদি বলা হয়।

হরির পরিচয় (Identity of hoary)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণ মানুষ নারায়ণকে হরি বললেও শ্বরবিজ্ঞানে কেবল জরায়ুতে মানবভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত জলকে হরি বলা হয়।

এবার পাঠককুলের বিচারের ওপর ছেড়ে দিলাম। আমরা লালন ও বলন হতে ওপরে এতগুলো উদ্ধৃতি তুলে ধরেছি; কোন উদ্ধৃতিটি দ্বারা বাংলা একাডেমি প্রণীত ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে বর্ণিত; কৃষ্ণ, যম, ২.সূর্য ৩.চন্দ্র ৪.বায়ু ৫.সিংহ ৬.অশ্ব ৭.পশু ৮.বানর ৯.ময়ুর ১০.কোকিল, পিক ১১.সর্প ১২.ভেক; ব্যাঙ, মণ্ডুক ১৩.কিরণ ১৪.হংস ১৫.সবুজবর্ণ ১৬.পিঙ্গলবর্ণ এবং ১৭.ধান্যবিশেষ। এসব বিষয়ে বলা হয়েছে? আবার এও হতে পারে যে; তারাও সংকলনের সময় অবশ্যই হয়তো অন্য কোথাও হতে সংকলন করেছেন। কথা হলো; কতলোকে না কত কী লিখে রেখেছে। তাই; বলে আমরাও কী আমাদের লিখিত গ্রন্থে ঐসব লিখে দিব?

পরিশেষে বলা যায়; এ উপমহাদেশে এখন পর্যন্ত বাংলাভাষায় একটিও পুরাণ নির্মিত হয় নি। তবে; অন্যান্য ভাষার শ্বরবিজ্ঞান নির্ভর পৌরাণিক সাহিত্যাদির কিছু কিছু ভুল অনুবাদ করা হয়েছে বাংলাভাষায়। যেমন; রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, হাদিস ইত্যাদি। এসব অনুবাদের মধ্যে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাগুলোর শতকরা ৯০% ভাগই ভুল। কারণ; যেসব মনীষী, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক ও অনুবাদকরা ঐ অনুবাদগুলো করেছেন; তারা কেউই আত্মজ্ঞানী ছিলেন না। তাই; আত্মতাত্ত্বিক অনুবাদক ব্যতীত সাধারণ অনুবাদকদের অনুবাদকৃত পুস্তক-পুস্তিকা পাঠ করে সাধারণ মানুষ কোনো দিন কোনভাবেই উপকৃত হয় নি, হচ্ছে না এবং হবেও না। হবে কেবল সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক কূটতার্কিক। শিখবে কিছু ছোটকি, কিছু উপদেশমূলক গল্প, কিছু প্রেমকাহিনী, কিছু করুণ কাহিনী, আর শিখবে কিছু ফোতোয়াবাজি। এটা নিষিদ্ধ, ওটা মন্দ, এটা করা যাবে না, ওটা খাওয়া যাবে না ইত্যাদি কিছু কথা। এছাড়াও; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকার অনুবাদ পাঠকারীরা আর যা শিখে তা হলো; এ রাজনীতি সঠিক না, ঐ রাজনীতি ভালো না, বসিধ এমন রাজনীতি করেন নি। যুদ্ধ করে রাজনীতি পরিবর্তন করতে হবে। সংগ্রাম করে সমাজ পরিবর্তন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক কর্মগুলো না করলে স্বর্গ পাওয়া যাবে না ইত্যাদি।

তাই কথা হলো; এসব অনুবাদ কখনই মানুষের মনের পশুত্ব দূর করতে সক্ষম নয়। সক্ষম নয় মানুষকে দার্শনিক স্বাধীনতার মুক্তাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করতে। সক্ষম নয় প্রচলিত সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীবৃত্তি হতে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে। বরং এদেশে প্রচলিত এসব অনুবাদ পাঠ করে সাধারণ মানুষ আরও উগ্র ও আরও সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে। এখনি এ উপমহাদেশে প্রচলিত পুরাণগুলোর আধ্যাত্মিক অনুবাদ আরম্ভ করা। অতঃপর; তা সমাজের সর্বত্র প্রচার-প্রসার করা।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!