১০ মুহাররাম (১ম পর্ব) পঞ্জিকা নির্ধারণ

(10 Muharram (1st episode)); (Calendar selection)

ভূমিকা (Prolegomenon)
হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম। এ মাসের ১০ তারিখ অন্ধবিশ্বাসী ও মতবাদ পাগল মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত পবিত্র। আর আরবীয় পুরাণের (Arabian mythology) মরণ কবলে পতিত একদল মুসলমানের নিকট অত্যন্ত বেদনার। তাই; ১০ মুহাররাম সম্পর্কে জানা একান্ত প্রয়োজন। আর ১০ মুহাররাম সম্পর্কে জানতে হলে অবশ্যই পঞ্জিকা সম্পর্কে জানতে হবে। এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; এখন পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে তিন প্রকার পঞ্জিকার (Calendar) ব্যবহার দেখা যায়। যথা; ১. দেহ পঞ্জিকা ২. চান্দ্র পঞ্জিকা ও ৩. সৌর পঞ্জিকা।

. দেহ পঞ্জিকা (Body Calendar)
অধিকাংশ আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিক মনীষীর মতে; সর্ব প্রথম প্রায় ৬,০০০ (ছয় হাজার) খ্রিস্টপূর্বাব্দে বাংভারতীয় মুনি, ঋষি ও যোগীগণ দেহ পঞ্জিকার ব্যবহার আরম্ভ করেন। একে কোথাও কোথাও দেহতরী, দেহঘড়ি, দেহগ্রন্থ, গ্রন্থ, পুস্তক, পুস্তিকা, বিশ্ব, গাছ, হাতি ও ঘোড়া ইত্যাদিও বলা হয়। আর এর ব্যবহার ক্রমে ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেহ পঞ্জিকা দ্বারা পৌরাণিক বিশ্ব সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ; বেদ, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, আগম, নিগম ও গীতা দেহ পঞ্জিকা দ্বারা লেখা হয়েছে। এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; সর্বদাই পৌরাণিক রূপক পরিভাষার দুইটি অর্থ থাকে। যথা; ১. আভিধানিক অর্থ ও ২. প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ। পৌরাণিক কাহিনী নির্মাণের সময়ে সম্পূর্ণরূপে পরিভাষার আভিধানিক অর্থ পরিত্যাগ করে প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ স্থাপন করা হয়। তাই; পুরাণ, পৌরাণিক সাহিত্য, শাস্ত্রীয় পুস্তক-পুস্তিকার অনুবাদ, ব্যাখ্যা (তাফসির) ও টীকা লেখার সময়ে রূপক পরিভাষার আভিধানিক অর্থ গ্রহণ করা যাবে না। এবং রূপক সংখ্যার গাণিতিক মানও গ্রহণ করা যাবে না। অর্থাৎ; রূপক পরিভাষার প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ ও রূপক সংখ্যার প্রায়োগিক বা পারিভাষিক মান ব্যবহার করতে হবে।

অনুরূপভাবে; দেহ পঞ্জিকা দ্বারাই বিশ্বের সর্ব প্রকার পুরাণ, পৌরাণিক সাহিত্য ও মরমী বাণী নির্মিত হয়েছে। যেমন; বাইবেল, তোরাহ, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান ইত্যাদি। পরবর্তীকালে কোনো কোনো পুরাণকে শাস্ত্রীয় পুস্তক-পুস্তিকা (কথিত ধর্মগ্রন্থ) রূপে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; যখনই কোনো পুরাণকে শাস্ত্রীয় পুস্তক-পুস্তিকা (কথিত ধর্মগ্রন্থ) রূপে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে; ঠিক তখনই; দেহ পঞ্জিকা না বুঝার কারণে সেই পুস্তক-পুস্তিকার ব্যাখ্যা-টীকা চান্দ্র ও সৌর পঞ্জিকা দ্বারা করা আরম্ভ হয়েছে। যারফলে; মানুষ বরাবরই বঞ্চিত হয়েছে; দেহতত্ত্ব শিক্ষা ও দেহ পঞ্জিকা সম্পর্কে জানা হতে। আরো স্মরণীয় যে; দেহ পঞ্জিকা দ্বারা নির্মিত পুস্তক-পুস্তিকার ব্যাখ্যা-টীকা কখনই চান্দ্র-সৌর পঞ্জিকা দ্বারা করা যায় না। আর করা হলেও তা মিলবে না। এই কারণেই অতীতে অনেক গবেষক, দার্শনিক ও বিজ্ঞানী স্বীকৃত শাস্ত্রীয় পুস্তক-পুস্তিকাকে ঐশীবাণী রূপে গ্রহণ করতে পারেন নি। তারা ঐসব স্বীকৃত ঐশি পুস্তক-পুস্তিকার মধ্যে অনেক অসঙ্গতির অজুহাত দেখিয়েছেন। যা এখনও ঘটে চলেছে। যেমন; ৩৩,০০,০০,০০০ দেবতা, ১,২৪,০০,০০ নবী, সগর রাজার ৬০,০০০ পুত্র, শিবের ৬০,০০০ স্ত্রী, কৃষ্ণের ১,৬০০ গোপী; সুলাইমানের ৩০০ স্ত্রী, নবীর ৪৭টি যুদ্ধ ও নবীর ১৪ বিবি ইত্যাদি। তাদের ধারণা এগুলো অবশ্যই রূপকথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো; সব সংখ্যার দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি রয়েছে। অর্থাৎ; প্রতিটি পৌরাণিক সংখ্যার মূলক মানবদেহে অবশ্যই বিদ্যমান। অর্থাৎ;

  1. ৩৩,০০,০০,০০০ দেবতা = ৩৩ কশেরুকা।
  2. ১,২৪,০০,০০ নবী = ১ নিরীক্ষ ও ২৪ পক্ষ (নারীর বাৎসরিক ১২টি রজকাল ও ১২টি পবিত্রকাল)।
  3. ৬০,০০০ পুত্র = ৬ রিপু।
  4. ৬০,০০০ স্ত্রী = ৬ রিপু।
  5. ১,৬০০ গোপী = ১৬ কলা।
  6. ৩০০ স্ত্রী = ৩ তার (ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষম্না)।
  7. ৪৭টি যুদ্ধ = ৪ চন্দ্র ও ৭ কর্ম।
  8. ১৪ বিবি = যার যার হাতের সাড়ে তিন হাত দেহ।

অর্থাৎ; যারা দেহ পঞ্জিকা পড়তে পারে না। কেবল তারাই এগুলোকে চান্দ্র ও সৌর পঞ্জিকায় অন্বেষণ করে। আর খুঁজে না পেয়ে বোকার মতো বলে যে; এসব অসত্য ও অবিশ্বাস্য। তখন অনেকেই এসব বোকা লোককে নাস্তিক নামে অভিহিত করে।

আন্তর্জাতিক দেহ পঞ্জিকা (যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে দেহভাণ্ডে) অনুসারে; কয়েকটি উপাদান হলো;

  1. খাল = যোনিপথ।
  2. গরু = পুরুষ।
  3. চন্দ্র = পালনকর্তা (সাঁই)।
  4. ছাগল = নারী।
  5. দিন = ১. ঋতুমতী নারীর পবিত্রকাল ও ২. দেহের সুস্থতা।
  6. নক্ষত্র = দেহের ইন্দ্রিয়সমূহ। এছাড়াও; ঋতুমতীর পবিত্রার ২৭ দিনকে ২৭ নক্ষত্র বলা হয়।
  7. নদী = নারীর যোনিপথ।
  8. নারী = শুক্র, দেহ, মন।
  9. পিতা = শিশ্ন ও আত্মা।
  10. পুত্র = শিশ্ন।
  11. পুরুষ = প্রজন্ম, শিশ্ন, জ্ঞান।
  12. পৃথিবী = মানবদেহ।
  13. মাতা = শুক্র, যোনি, দেহ, জরায়ু।
  14. যুদ্ধ = মৈথুন।
  15. রাত = ১. ঋতুমতী নারীর ঋতুকাল ও ২. দেহের অসুস্থতা।
  16. সাগর = জরায়ু, দেহ, জ্ঞান।
  17. সূর্য = সৃষ্টিকর্তা (কাঁই)।
  18. সৈন্য = শ্বাস।
  19. স্ত্রী = শুক্র, মন, দেহ।
  20. স্বামী = আত্মা, শিশ্ন।

এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; বর্তমানে সারা পৃথিবীর সব চান্দ্র পঞ্জিকা; সব সৌর পঞ্জিকা, বছরের সব বারো মাসের নাম, সপ্তাহের সব সাতবারের নাম সবকিছুই দেহ পঞ্জিকা হতে গ্রহণ করা হয়েছে।

. চান্দ্র পঞ্জিকা (Lunar calendar)
এটি এমন একটি পঞ্জিকা (ক্যালেন্ডার); যেখানে দিনসমূহকে গণনা করার জন্য চাঁদের ঘুর্ণন পদ্ধতির ফলে উদ্ভূত গণনাকে ব্যবহার করা হয়। গণনার অসুবিধার্থে পৃথিবীতে চন্দ্র পঞ্জিকার ব্যবহার কম। তবে; সাম্প্রদায়িক ও শাস্ত্রীয় ক্ষেত্রে এর প্রচলন অধিক। যেমন; হিজরি পঞ্জিকা। প্রাথমিকভাবে বর্ষ গণনা করা হতো চাঁদের আবর্তন গণনা করে; যা সুমেরীয় সভ্যতায় প্রথম দৃষ্ট হয়। বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; এই পঞ্জিকার প্রায় সব উপাদান দেহ পঞ্জিকা হতে গৃহীত।

. সৌর পঞ্জিকা (Solar Calendar)
সৌর পঞ্জিকা হলো; এমন একটি পঞ্জিকা (ক্যালেন্ডার); যেখানে দিনসমূহকে গণনা করার জন্য সূর্যের ঘূর্ণন পদ্ধতির ফলে উদ্ভূত গণনাকে ব্যবহার করা হয়। গণনার সুবিধার্থে পৃথিবীতে সৌর পঞ্জিকার ব্যবহারই অধিক প্রচলিত; যেমন; ইংরেজি পঞ্জিকা, বাংলা পঞ্জিকা। সৌর পঞ্জিকার ভিত্তি হলো পৃথিবীর আহ্নিক গতির সময়কাল এবং বার্ষিক গতির সময়কাল। মিশরীয়রা জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিতে অগ্রগামী ছিল। তাই; তারাই ৪,২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পৃথিবীতে সর্ব প্রথম সৌর পঞ্জিকার প্রচলন করে। বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; এই পঞ্জিকার প্রায় সব উপাদান দেহ পঞ্জিকা হতে গৃহীত।

কয়েকটি সৌর পঞ্জিকা (Some of the solar calendar)

বঙ্গাব্দ (Bepoch)
এটি হলো; বঙ্গদেশের একটি ঐতিহ্য মণ্ডিত সৌর পঞ্জিকা ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি।

জুলিয় বর্ষপঞ্জি (Julius Calendar)
এটি হলো; খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ খ্রিস্টাব্দে জুলিয়াস সিজার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি ঐতিহ্যবাহী সৌর ক্যালেন্ডার।[৪]

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী (Gregorian calendar)
একে গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জী, পাশ্চাত্য বর্ষপঞ্জী, ইংরেজি বর্ষপঞ্জি বা খ্রিস্টাব্দও বলা হয়। এটি হলো; আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় সর্বত্র স্বীকৃত একটি সৌর বর্ষপঞ্জী; যা বিভিন্ন সময় ধাপে ধাপে উন্নয়নের ফলে বর্তমান রূপে আবির্ভূত হয়েছে।[৫][৬][৭][৮]

থাই (শ্যামদেশীয়) সৌর বুদ্ধাব্দ (Thai (Sam Native) solar Buddha calendar)
থাইল্যান্ডে প্রচলিত সৌর ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি বুদ্ধাব্দ নামেই পরিচিত, যাতে সূর্যের একেকটি রাশিতে অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে একেকটি মাস গণিত হয়।

ইরানি বর্ষপঞ্জী (Iranian calendar)
একে পারস্য বর্ষপঞ্জীও বলা হয়। এটি হলো; বৃহত্তর ইরানে প্রায় দুই সহস্রাব্দব্যাপী প্রচলিত বর্ষপঞ্জী; যাতে বছর আরম্ভ হয় ইরানি সময়ানুসারে গণিত মহাবিষুবের দিনে।

বাইজেন্টাইন বর্ষপঞ্জী (Byzantine Calendar)
এটি হলো; ইস্টার্ন অর্থোডক্স চার্চ কর্তৃক ব্যবহৃত একটি সৌর ভিত্তিক পঞ্জিকা; যা কনস্টান্টিনোপল সৃষ্টির যুগ (Creation Era of Constantinople) বা বিশ্ব এর যুগ (Era of the World) নামে পরিচিত।[১০]

শকাব্দ (শালীবাহনাব্দ) (Shalivahana era)
এটি হলো; ভারতীয় উপমহাদেশে বহুলপ্রচলিত এক প্রাচীন সৌর অব্দ।[১]


আরবি বারো মাসের নামকরণ (Arabic twelve month naming)
ভূমিকা (Prolegomenon)
মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু, ইন্দ্রিয়াদি ও বিভিন্ন প্রত্যঙ্গের রূপক নামে ঈশ্বরায়িত, দেবতায়িত ও মানবায়িত চরিত্রাদি দ্বারা সারাবিশ্বের সব পুরাণ ও শ্বরবিজ্ঞান নির্মাণ করা হয়েছে। একথা শাশ্বত ও সর্বজন স্বীকৃত। স্মরণীয় যে; মানুষের জীবন চলার জন্য প্রয়োজনীয় সব আবিষ্কারের মূল উৎস মানবদেহঅর্থাৎ; মানুষে বিদ্যমান বিভিন্ন বিষয়বস্তু ও অবস্থার রূপক নামে ঈশ্বরায়িত, দেবতায়িত ও মানবায়িত পৌরাণিক চরিত্র দ্বারা সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদগুলোর শাস্ত্রীয় নাম, আনুষ্ঠানিকতা ও উপাসনার নামকরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে; মানুষের বিদ্যমান বিভিন্ন বিষয়বস্তুর পরিমাণ জ্ঞাপক সংখ্যা গ্রহণ করে বিশ্বের সব গণনা, পরিমাপ ও পরিসংখ্যান নির্মাণ করা হয়েছে। যেমন; সপ্তাহের দিনের নাম, বছরের মাসের নাম ও পৌরাণিক নারী-পুরুষের চরিত্র ইত্যাদি।

তবে; এখানে আরো অধিক ভাববার বিষয় হলো; বিশ্বের বিভিন্ন পুরাণ, শ্বরবিজ্ঞান ও শাস্ত্রীয় চরিত্রের নাম নির্মাণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয় দেহ হতেই গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আরবী বারো মাসের নামকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো কেবলই নারীদেহ হতে গ্রহণ করা হয়েছে। এ হতেই বুঝা যায় যে; আরবীয়রা প্রাচীনকাল হতেই কতটুকু নারী পাগল বা নারীবাদী ছিলেন। এককথায় বলা যায়; আরবীয় সংস্কৃতি পুরোটাই নারীবাদী বা ডানবাদী। কারণ; তাদের লেখা ডান থেকে, তারা চলাচল করে পথের ডানপার্শ্ব দিয়ে। অর্থাৎ; আরবীয় সংস্কৃতি পুরোটাই নারীবাদী। কারণ; তারা তাদের উপাসনালয়ের ওপরে গম্বুজ রূপে নারীর স্তন প্রতীক নির্মাণ করাকে সেম্বল রূপে গ্রহণ করেছে। তারা কাবার দেয়ালে হাজরে আসওয়াদ নামে নারীর যোনি প্রতীক স্থাপন করেছে। অন্যদিকে; ভারতীয় ও জাপানী সংস্কৃতি বামবাদী। কারণ; তাদের লেখা বাম থেকে, তারা চলাচল করে পথের বামপার্শ্ব দিয়ে। অর্থাৎ; ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতি শিশ্নবাদী। কারণ; তারা তাদের উপাসনালয়ের ওপরে পুরুষের শিশ্ন প্রতীক স্থাপন করে এবং শিশ্ন পূজা করে। যেমন; ভারতের শিবলিঙ্গ পূজা ও জাপানের শিশ্ন পূজা। পূর্বকালে আরবি মাসের ধারাবাহিকতা এখনকার মতো ছিল না। ৬৬ হিজরী পর্যন্ত সফর মাসটি আগে ছিল। তখন; আরবি মাসগুলো ছিল;

  1. Safar al-Muzaffar (سفر المظفر)
  2. Rabi al-Awal (ربيع الأول)
  3. Rabi al-Thaani (ربيع الثاني)
  4. Jumaada al-Awal (جمعة الأول)
  5. Jumaada al-Thaani (جمعة الثاني)
  6. Rajab al-Murajjab (رجب المرجب)
  7. Shabaan al-Muazzam (شعبان المعظم)
  8. Ramadhaan al-Mubarak (رمضان المبارك)
  9. Shawwaal al-Mukarram (شوال المكرم)
  10. Dhu al-Qa’dah (ذو القاعدة)
  11. Dhu al-Hijjah (ذو الحجة)
  12. Muharram al-Haraam (محرم الحرام)

এরপর; মুহাররম মাসকে আগে স্থাপন করে অন্যান্য মাসের ক্রমিক এক এক করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন; সফর আগে ছিল এক; পরে হয়েছে দুই। (তথ্যসূত্র; The Islamic Jewish Calendar)[১০]

১. মুহররম (محرم) মাসের নামকরণ ইতিহাস (1. Muharram month’s naming history)
ভূমিকা (Prolegomenon)
আরবি মুহাররম (ﻤﺤﺮﻡ) অর্থ নিষিদ্ধ, অবৈধ। কি নিষিদ্ধ? কেন নিষিদ্ধ? এটি মাসের নাম হলো কেন? এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; মানুষের জীবন চলার জন্য প্রয়োজনীয় সব আবিষ্কারের মূল উৎস মানবদেহযা ইতোপূর্বে; একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে তাই; এমন প্রশ্নের উত্তর হলো; কাম জীবের সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব। তাই; মানুষের কামের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। কামের ক্ষেত্র নারী। নারীর প্রাথমিক অবস্থা কৈশোরকাল। কৈশোরকালে কিশোরীদের যোনি সঙ্গমের অনুপযোগী থাকে। কিশোরী অবস্থায় যোনি পরিত্যক্ত। তাই; কিশোরীর সাথে কামকেলি চির নিষিদ্ধ। অর্থাৎ; অপ্রাপ্ত বয়স্কা কুমারীর সাথে কামকেলি নিষিদ্ধ। এটা না মানার কারণে এখনও সমাজে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়টি লক্ষ্য করেই প্রাক ইসলামী মনীষীগণ কিশোরীকে বলতো মুহাররম (ﻤﺤﺮﻡ)। অর্থাৎ; কিশোরীদের স্নেহ ও ভালোবাসা বৈধ কিন্তু তাদের সাথে সঙ্গম অবৈধ। এখান থেকেই আরবি চান্দ্রবর্ষের প্রথম মাসের নামকরণ করা হয়েছে মুহাররম (ﻤﺤﺮﻡ)।

আরবি বারো মাসের নামকরণের আত্মদর্শন (The naming introspection of the Arabic twelve-months)
ভূমিকা (Prolegomenon)
আত্মতাত্ত্বিক ও দেহতাত্ত্বিক মনীষীগণ বলেন যে; সারাবিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক-পারম্পরিক সূত্রতথ্য কেবল মানবদেহ হতে সৃষ্টি। স্মরণীয় যে; দেহ দুই প্রকার। যথা; নরদেহ ও নারীদেহ। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য পুরুষবাদী বা শিশ্নবাদী কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য নারীবাদী বা যোনিবাদী (Eastern and Western meninist or phallic; But the Middle East is feminist or vaginal)। তাই বলা যায়; মধ্যপ্রাচ্যের মনীষীরা যাকিছু করেছে; কেবল নারী, নারীদেহ ও যোনি নিয়ে করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় একজন নারীদেহ নিয়ে হিজরী বারো মাসের নামকরণও করেছে। যদিও; এখানে শুক্রধর পুরুষের নামে জমাদিউল আওয়াল ও জমাদিউস সানি নামে দুটি মাসের নামকরণ করা হয়েছে। এমন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে; এখন পর্যন্ত ইংরেজি সেপ্টেম্বর (Septem), অক্টোবর (Octo), নভেম্বর (Novem) ও ডিসেম্বর (Dsecem) এই চার মাসের নামের অর্থ ও ক্রমিক অবস্থানের দিক দিয়ে ভুল। কারণ নিম্নরূপ।

আরবি বারো মাসের নামের উৎস সারণী (The source table of Arabic twelve month name)

ক্রমি মাস প্রায়োগিক অর্থ
১. মুহররম (محرم) কিশোরী
২. সফর (صفر) যুবতী
৩. রবিউল আউয়াল (ربيع الأولي) গর্ভবতীর গর্ভসঞ্চারের প্রথম চার মাস। তবে; বর্তমানকালের রাবে (ربيع) বানান অনুযায়ী রজ
৪. রবিউস সানি (ربيع ثاني) গর্ভবতীর সন্তান প্রসবের পূর্বের চার মাস। তবে; বর্তমানকালের রাবে (ربيع) বানান অনুযায়ী পালনকর্তা
৫. জমাদিউল আউয়াল (جمادى الأولی) শুক্রধর
৬. জমাদিউস সানি (جمادي ثاني) শুক্রধর
৭. রজব (رجب) রজকাল।
৮. শা‘বান (شعبان) ভৃগু (জরায়ুমুখ)।
৯. রমজান (رمضان) যৌবনকাল (যৌনোত্তেজনা)।
১০. শাওয়াল (شوال) ঋতুমতী
১১. জিলকদ (ذو القعدة) শুক্র (ফল)।
১২. জিলহজ (ذو الحجة) কাম (সঙ্গম)।

পৌরাণিক পরিভাষা সূত্র-১
মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদির রূপক নামে ঈশ্বরায়ন করে নির্মিত ঈশ্বর, দেবতায়ন করে নির্মিত দেবতা ও মানবায়ন করেন নির্মিত মানবকে পৌরাণিক চরিত্র বলা হয়।

পৌরাণিক সংখ্যা সূত্র-২
মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদির পরিমাণ জ্ঞাপক সংখ্যাকে পৌরাণিক মূলক সংখ্যা বলা হয়।

ইসলামী পুরাণ অনুসারে; ১০ মুহাররাম তারিখে যাকিছু ঘটেছে
(According to Islamic mythology; whatever happened on 10 Muharram)

আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী বা ইসলামী পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; আরবি মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে যাকিছু ঘটেছে।

  1. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।
  2. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ আকাশ ও ভূমি সৃষ্টি করেছেন।
  3. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ হযরত দাউদ আঃ এর প্রার্থনা গ্রহণ করেছেন।
  4. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) এর গন্ধম (গম) খাওয়ার পাপ ক্ষমা করেন। কথিত আছে; আদম (আঃ) এর ক্ষমা পেতে সময় লেগেছিল ৩৬০ বছর।
  5. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ঈসা (আঃ) জন্ম গ্রহণ করেন।
  6. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তিলাভ করেন।
  7. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ঈসমাঈল (আঃ) কে কুরবানী করা হয়।
  8. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান।
  9. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইউসুফ (আঃ) জেলখানা থেকে মুক্তিলাভ করেন।
  10. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইয়াকুব (আঃ) দৃষ্টি ফিরে পান এবং এ দিনেই হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইউসুফ (আঃ) এর সাথে মিলিত হন।
  11. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হজরত নূহ (আঃ)-এর মহাপ্লাবন কবলিত নৌকা জুদি পর্বতের মাটি স্পর্শ করে।
  12. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মহররম মাসের ১০ তারিখে হজরত সুলাইমান (আঃ) তাঁর রাজত্ব ফিরে পান।
  13. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হজরত মুসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীগণ আল্লাহর কুদরতে সৃষ্টি হওয়া সাগরের মাঝে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যান। আর ফেরাউন ও তার বাহিনীর সলিল সমাধি হয়।
  14. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; রসুল (সা.)-এর নাতি ইমাম হোসাইন কারবালার প্রান্তরে নিহত হন এই দিনেই।

এছাড়াও; আরবীয় পুরাণ অনুসারে; মহররম মাসের ১০ তারিখে কিয়ামত সংগঠিত হবে। আরবীয় পুরাণ অনুসারে; মহররম মাসের ১০ তারিখে সবার পুনরুত্থান হবে। আরবীয় পুরাণ অনুসারে; মহররম মাসের ১০ তারিখে বিচারকার্য আরম্ভ হবে। এসব ঘটনা সমাজে প্রচলিত রয়েছে; যা কোরান ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। মুসলমান মনীষীগণ কেউ বলেন যে; আদতে এগুলো ইসরাইলী বর্ণনা। আবার; কেউ বলেন যে; এগুলো ইহুদীদের কল্প কাহিনী মাত্র। যেহেতু; চান্দ্র পঞ্জিকার প্রায় সব উপাদান দেহ পঞ্জিকা হতে গ্রহণ করা হয়েছে; সেহেতু; উপরোক্ত কাহিনীগুলোর সব উপাদান মানবদেহে কোনো না কোনভাবে বিদ্যমান।

(তথ্যসূত্র)
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
মিথোলোজি টু থিওলোজি; লেকক; বলন কাঁইজি।

বহিঃসংযোগ (External links)

  1. “সৌর-পঞ্জিকা”। http://onushilon.org। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
  2. সৈয়দ আশরাফ আলী (জানুয়ারি ২০০৩)। “বাংলা বর্ষপঞ্জি”। সিরাজুল ইসলাম। [[বাংলাপিডিয়া]]। ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ। আইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
  3. “যেভাবে এলো ইংরেজি ক্যালেন্ডার”। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম অনলাইন। ৩১ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
  4. “রোমের সৌর পঞ্জিকা”। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন। ১৬ এপ্রিল ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
  5. Introduction to Calendars. United States Naval Observatory. Retrieved 15 January 2009.
  6. Calendars by L. E. Doggett. Section 2.
  7. The international standard for the representation of dates and times, ISO 8601, uses the Gregorian calendar. Section 3.2.1.
  8. The Indian Calendar, NASA Eclipse Website.

———————————————————————————–

  1. ১০ মুহাররাম (১ম পর্ব); পঞ্জিকা নির্ধারণ (10 Muharram (1st episode)); (Calendar selection)
  2. ১০ মুহাররাম (২য় পর্ব); ইসলামী পৌরাণিক বর্ণনাগুলোর আত্মদর্শন (10 Muharram (2nd episode)); (Introspection of those Islamic mythologies)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!