১০ মুহাররাম (২য় পর্ব) ইসলামী পৌরাণিক বর্ণনাগুলোর আত্মদর্শন

(10 Muharram (2nd episode)); (Introspection of those Islamic mythologies)

ভূমিকা (Prolegomenon)
আরবি মুহাররামের আভিধানিক অর্থ নিষিদ্ধ। কিন্তু আরবীয় পৌরাণিক বর্ণনা অনুসারে; মুহাররামের প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ মৈথুনের অনুপযুক্ত কিশোরী ও কিশোর। অন্যদিকে; ১০ তারিখ এর আভিধানিক অর্থ; যে কোনো মাসের দশম দিন। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ মানুষের দশম ইন্দ্রিয়। তাহলে; সেই দশম ইন্দ্রিয় কোনটি? স্বভাবতই; মানব সন্তানের ইন্দ্রিয় সংখ্যা ১০টি। সন্তান জন্মের ৪ (চার) বছরের মধ্যে ৯টি ইন্দ্রিয়ই সক্রিয় হয়ে উঠে। একটি ইন্দ্রিয় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় থাকে। সেটি হলো; উপস্থ। উপস্থের সদস্য দু্ইটি। যথা; যোনি-শিশ্ন। অর্থাৎ; ১০ মুহাররাম পরিভাষাটির প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; কিশোর/ কিশোরীর যোনি-শিশ্ন অর্থাৎ; প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বে কিশোর-কিশোরী শিশ্ন-যোনি ব্যবহার না করাকেই আরবীয় পুরাণে মুহাররামের ১০ তারিখ বলা হয়েছে।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন
এখানে আল্লাহ ও পৃথিবী; এ দুইটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

আল্লাহ (الله) আরবি পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ; জলটি, সৃষ্টিকর্তা জল ইত্যাদি। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; কৃষ্ণ, কালো, কালা, শ্যাম। অর্থাৎ; আল্লাহ হলো আরবীয় পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তার ছদ্মনাম পরিভাষা।

পৃথিবী পরিভাষাটির আভিধানিক অর্থ; বিশ্ব, ধরা ও বসুন্ধরা। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; দেহ। অর্থাৎ; পৃথিবী হলো দেহের উপমান পরিভাষা।

“মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।” অর্থাৎ; এর দ্বারা ইসলামী পুরাণে দেহ দ্বারা দেহ সৃষ্টির (মানুষ দ্বারা মানুষ সৃষ্টি) কথা বলা হয়েছে।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অতঃপর; আবার; মানুষ সন্তান নামক পৃথিবী সৃষ্টি করা আরম্ভ করে। এখানে এটিই বুঝানো হয়েছে।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ আকাশ ও ভূমি সৃষ্টি করেছেন।
এখানে আল্লাহ, আকাশ ও ভূমি; এ তিনটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

আল্লাহ (الله) আরবি পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ; জলটি, সৃষ্টিকর্তা জল ইত্যাদি। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; কৃষ্ণ, কালো, কালা, শ্যাম। অর্থাৎ; আল্লাহর হলো আরবীয় পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তার ছদ্মনাম পরিভাষা।

আকাশ এর আভিধিক অর্থ; মহাশূণ্য। কিন্তু পৌরাণিক সাহিত্যে মানুষের নাভির উপরের অংশকে আকাশ বলা হয়। এছাড়াও; পরিপ্রেক্ষিতে শিষ্যকে ভূমি ধরা হলে; গুরুকে আকাশ ধরা হয়। অর্থাৎ; দুর্বলকে ভূমি ধরলে সবলকে আকাশ ধরা হয়।

ভূমির আভিধানিক অর্থ; মাটি, নিম্নতল। কিন্তু পৌরাণিক সাহিত্যে মানুষের নাভির নিচের অংশকে ভূমি ধরা হয়। এককথায়; আকাশ ও ভূমি দ্বারা কেবল দেহকেই বুঝায়।

“মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ আকাশ ও ভূমি সৃষ্টি করেছেন।” অর্থাৎ; এর দ্বারা ইসলামী পুরাণে মানবদেহ বা মানব সন্তান সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অতঃপর; আবার; মানুষ সন্তান (একটি দেহ; নাভির নিচে আকাশ ও নাভির নিচে ভূমি) সৃষ্টি করে। এখানে এটিই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ; আরবীয় পুরাণে সন্তান সৃষ্টি করাকেই আকাশ-ভূমি সৃষ্টি করা বলা হয়েছে।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ হযরত দাউদ (আঃ) এর ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করেছেন।
এখানে আল্লাহ ও দাউদ; এ দুইটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

আল্লাহ (الله) আরবি পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ; জলটি, সৃষ্টিকারী জল ইত্যাদি। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ কৃষ্ণ, কালো, কালা, শ্যাম। অর্থাৎ; আল্লাহ হলো আরবীয় পুরাণে বর্ণিত জীব সৃষ্টির অনুঘটক কালো জলের ছদ্মনাম পরিভাষা।

দাউদ (ﺪﺍﺆﺪ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক David হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক David পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ; প্রিয়, dear. অন্যদিকে; এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ যোনি। যোনি সবারই প্রিয়; তাই; গ্রিক পুরাণে এর এরূপ প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন; বাঙালী পুরাণে যোনির রূপক পরিভাষা কানাই

হযরত দাউদ (আঃ) ভুল বা অন্যায় সম্পর্কে কুরান ও কুরান নির্ভর কোনো পুস্তক-পুস্তিকায় কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। (তবে; কোনো কোনো তাফসির গ্রন্থে একজনের ১টি ভেঁড়া ও অন্য জনের ৯৯টি ভেঁড়ার গল্প ফাদা হয়েছে)। কিন্তু; বাইবেলে বর্ণিত আছে যে; হযরত দাঊদ (আঃ)-এর ৯৯ জন স্ত্রী ছিল। এ সত্ত্বেও তিনি তাঁর এক সৈন্যের স্ত্রীকে বলপূর্বক অপহরণ করেন। অতঃপর; উক্ত সৈনিককে হত্যা করে তার স্ত্রীকে বিয়ে করেন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আল্লাহ দুই জন ঐশিদূতকে বাদী ও বিবাদীর বেশে পাঠিয়ে তাকে শিক্ষা দেন। এতে তিনি ভুল বুঝতে পারেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীতে বর্ণিত ডেভিডের ৯৯ স্ত্রীর প্রায়োগিক অর্থ হলো; পুরুষের বাহ্যিক ৯টি দ্বার এবং নারীর বাহ্যিক ৯টি দ্বার। অর্থাৎ; দুইটি ৯-কে সরলভাবে পাশাপাশি স্থাপন করে ৯৯ স্ত্রী নামক স্থাপক রূপক সংখ্যাটি সৃষ্টি করা হয়েছে।

সৈন্যের স্ত্রী হলো; পুরুষজাতির শুক্র (বীর্য)। এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার পৌরাণিক নারী চরিত্র কেবল যোনি ও শুক্রের রূপক নামে নরত্বারোপ করে সৃষ্টি করা হয়। যেহেতু; এখানে সৈন্য হলো শিশ্ন। সেজন্য; এখানে সৈন্যের স্ত্রী শুক্র। সৈন্যকে হত্যা করা অর্থাৎ; শুক্রপাত করা। আর বাদী ও বিবাদী ঐশিদূত হলো; যোনিশিশ্ন। এদেকে বাংলায় অহি-নকুল, কানাই-বলাই, কুম্ভ-নিকুম্ভ, কুরুক্ষেত্র, কুরু-জাঙ্গল, কুশী-লব, ক্রৌঞ্চ-মিথুন, খর-দূষণ, গজ-কচ্ছপ, গৌরী-শঙ্কর, গৌরী-শৃঙ্গ, জগাই-মাধাই, জনক-জননী, জয়-বিজয়, জায়া-পতি, তাল-বেতাল, তৈলচক্র, তৈলযন্ত্র, দেবদেবী, দ্বাপর, দ্বিদল, দ্বিপদ, দ্বিপদী, দ্বিপস্থ, দ্বিপাদ, দ্বিপৃষ্ঠ, দ্বৈরথ, দ্বৈরাজ্য, দ্ব্যাত্মবাদী, নক্ষত্রসন্ধি, নন্দী-ভৃঙ্গী, নর-নারায়ণ, নাড়া-নাড়ী, নৃসিংহ, পস্থ, পিতা-মাতা, পুরুষ-প্রকৃতি, বর-কনে, বর-বধূ, বাঘটাগ, ভগবান, মধু-কৈটভ, মধু-মালা, মহোদর-লম্বোদর, মাতা-পিতা, মাতৃ-পিতৃ, মা-বাপ, মিত্রাবরুণ, যমলার্জুন, যাজ-উপযাজ, যুক্তবেণী, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রম্ভ-করম্ভ, রাজ-দম্পতি, রাহু-কেতু, শুম্ভ-নিশুম্ভ, সুন্দ-উপসুন্দ, সুরাসুর, স্ত্রী-পুরুষ, হংস-ডিম্বক ও হংস-মিথুন বলা হয়। এছাড়াও এদেরকে হারুত-মারুত (.ﻫﺎﺭﻮﺓ- ﻤﺎﺭﻮﺓ), হাবিল-ক্বাবিল (. ﺤﺑﻝ- ﻗﺎﺑﻞ), শিমন-পিতর, লিদি-লাইদ (Lethe- Lithe)  ইত্যাদি বলা হয়।

 আর কারণে অকারণে যত্রতত্র দেহ দেয়া পাপ। যৌবনে সবাই দেহ দেয় কিন্তু শেষ বয়সে সবাই অনুশোচনা করে। এটিই বুঝানো হয়েছে।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অতঃপর; আবার; মৈথুনে শিশ্ন শুক্রপাত করে এবং যোনিও শুক্র হরণ করে। তারপর; সন্তান জন্ম দেয়। সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য শেষ বয়সে অনুশোচনা করে। এখানে এটিই বুঝানো হয়েছে।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) এর গন্ধম (গম) খাওয়ার পাপ ক্ষমা করেন। কথিত আছে; আদম (আঃ) এর ক্ষমা পেতে সময় লেগেছিল ৩৬০ বছর
এখানে আল্লাহ, আদম, হাওয়া, গন্দম ও ৩৬০ বছর; এ ৫টি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

আল্লাহ (الله) আরবি পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ; জলটি, সৃষ্টিকারী জল ইত্যাদি। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ কৃষ্ণ, কালো, কালা, শ্যাম। অর্থাৎ; আল্লাহ হলো আরবীয় পুরাণে বর্ণিত জীব সৃষ্টির আদি অনুঘটক কালো জলের ছদ্মনাম পরিভাষা।

আদম (ﺁﺪﻢ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Adam হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Adam পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ; পুরুষের কণ্ঠের উঁচু অংশ, wind-pipe; throat. এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ কণ্ঠের উঁচু অংশ। আর আরবীয় পুরাণে একে বলা হয় আদিপিতা। উদাহরণত; বাংভারতীয় পুরাণে বর্ণিত আদিপিতা গোবিন্দ ও মনু। উভয় পরিভাষারই প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ পুরুষজাতির শুক্র। বীজ (শুক্র) সৃষ্টির আদি সত্তা রূপে কাজ করে। তাই; আরবীয় পুরাণে শুক্রকে আদিপিতা বলা হয়। অর্থাৎ; আদম হলো পুরুষের শুক্র

হাওয়া (حَوَاءٌ) আরবি পরিভাষা। হাওয়া (حَوَاءٌ) পরিভাষাটি কুরানে উল্লেখ নেই। কিন্তু আরবীয় পুরাণে হাওয়াকে মুসলিম জাতির আদিমাতা বলা হয়েছে। গ্রিক পুরাণে আদিমাতাকে বলা হয় ইভ (Eve)। আর বাংভারতীয় পুরাণে আদিমাতাকে বলা হয় শতরূপাসরস্বতী। হাওয়া, শতরূপা ও সরস্বতী এসব পরিভাষার প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ নারীজাতির রজস্রাব। যেহেতু; রজস্রাব জীব সৃষ্টি ক্রিয়ার আদি অনুঘটক; তাই; বিশ্বের সব পুরাণে রজস্রাবকে আদিমাতা বলা হয়।

গন্দম (گندم) ফার্সি পরিভাষা। আরবীয় পুরাণ অনুসারে; হযরত আদম ও হযরত হাওয়া যে ফল খেয়ে অপরাধী হয়েছিলেন; কুরানে সেই ফলের নাম উল্লেখ নেই। অধিকাংশ তাফসিরে সেই ফলকে রূপকভাবে গন্দম বলা হয়েছে। গন্দম এর আভিধানিক অর্থ গম। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ ভগ। অর্থাৎ; নারীর যোনি মুখ। গম দেখতে বন্ধ-যোনির ফাটার মতো; সেজন্য; গমকে যোনি মুখের সাথে উপমান করা হয়েছে। আর গম খাওয়া বলতে মৈথুন করে সন্তান সৃষ্টি করা বুঝানো হয়েছে।

৩৬০ বছরের প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; একজন নারীর যৌবনকাল গড়ে ১১ হতে ৪০ বছরের মধ্যবর্তী ৩০ বছর। গড়ে প্রতি মাসে ১টি করে রজ আসে। যারফলে; বাৎসরিক রজ ১২টি। আর ৩০ বছরে রজ আসে (৩০ × ১২) = ৩৬০টি।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অতঃপর; আবার; সে স্বেচ্ছায় সন্তান রূপে মানুষ সৃষ্টির কাজ আরম্ভ করে। অর্থাৎ; এখানে আরবীয় পুরাণে বর্ণিত আদম ও হাওয়ার গন্দম খাওয়া দ্বারা সন্তান গ্রহণ এবং ৩৬০ বছর দ্বারা যৌবন বয়সকে অতিক্রম করার কথা বলা হয়েছে।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ঈসা (আঃ) জন্ম গ্রহণ করেন।
এখানে ইসা নামক ১টি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

ইসা (عيسى) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Jesus হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Jesus পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। আর গ্রিক Jesus এসেছে বাংভারতীয় কৃষ্ণ হতে। এর আভিধানিক অর্থ; ভ্রূণ ও প্রাণশক্তি। আর এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ কৃষ্ণ। আর বাঙালী পুরাণে কৃষ্ণের রূপক পরিভাষা হলো; কালা, কালিয়া ও শ্যাম ইত্যাদি। জীব সৃষ্টির আদি অনুঘটক জলের রঙ কালো। তাই; বাংভারতীয় পৌরাণিক সাহিত্যে সৃষ্টিকর্তাকে কৃষ্ণ নামে ডাকা হয়। যেমন; হিন্দু মতবাদের বীজ মন্ত্রে বলা হয়েছে; হরে কৃষ্ণ হরে রাম

মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের মধুবৎ মিষ্ট অমৃত জলকে ইংরেজিতে বলা হয় মেলেনিন (Melanin)। মেলেনিন দেখতে কালো; তাই; মেলেনিনকে বাংলায় বলা হয় কাঁই। মেলেনিনকে সংস্কৃতে বলা হয় কৃষ্ণ এবং মেলেনিনকে গ্রিক ভাষায় বলা হয় Christo. আর Christo হতেই যিশুখ্রিস্ট পরিভাষার উৎপত্তি। তাই; মনে রাখতে হবে Jesus ও Christo ভিন্ন কোনো সত্তা নয় এবং ভিন্ন কোনো পরিভাষাও নয়। এগুলো কাঁই ও কৃষ্ণ পরিভাষারই বর্ণান্তরণ মাত্র। যেমন; কৃষ্ণ > Christo > Chrisno > Jesno > Jesus করা হয়েছে। অতঃপর; Jesus এবং Christo পরিভাষাকে একত্র করে গ্রিক যিশুখ্রিস্ট (Jesus Christo) করা হয়েছে। এখানে আরো স্মরণীয় যে; কৃষ্ণের জীবনী ও যিশুর জীবনীর প্রায় কাছাকাছি মিল রয়েছে। তাই; পরিষ্কারভাবে বলা যায় যে; গ্রিক যিশুখ্রিস্ট বাংভারতীয় কৃষ্ণের অনুবাদ মাত্র।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অতঃপর; আবার; মানুষের অঙ্কুর বা ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ; মানব সৃষ্টির প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়। তাই; বলা হয়েছে যে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইসা জন্মগ্রহণ করেছেন।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তিলাভ করেন
এখানে ইব্রাহিম, নমরুদ ও অগ্নিকুণ্ড; এ তিনটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

ইব্রাহিম (ﺍِﺑْﺭَﺍﻫِﻴْﻡٌ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Abraham হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Abraham পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ পিতা, জনক। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ শিশ্ননমরুদ (نَمْرُوْدٌ) হিব্রু পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ বিদ্রোহী। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা)। নমরুদের অগ্নিকুণ্ড হলো যোনিঅগ্নিকুণ্ড, সীতাকুণ্ড, কুণ্ড, কূপ, অন্ধকূপ এসব পরিভাষা দ্বারা পৌরাণিক বিশ্বে সব সময় যোনি বুঝায়। যোনিতে নারীদেহের সবচেয়ে অধিক তাপ অনুভূত হয়। তাই; পৌরাণিক সাহিত্যে যোনিকে অগ্নিকুণ্ড বলা হয়। মুক্তিলাভ হলো; মৈথুনে শুক্রনিয়ন্ত্রণ করার কৌশল আয়ত্ত করা।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। তখন; যৌনোত্তেজনা শিশ্নকে যোনির নিকট নিয়ে যায়। তারপর; শুক্রপাত করতে করতে সিদ্ধ সাধকের পরশে এক সময়ে মানুষ শুক্রনিয়ন্ত্রণ শেখে। তখন; আর মৈথুনে শুক্রপাত করে না। আরবীয় পুরাণে একেই ইব্রাহিমের নমরুদের অগ্নিকুণ্ড হতে মুক্তিলাভ করা বুঝানো হয়েছে।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ঈসমাঈলকে (আঃ) কুরবানি করা হয়।
এখানে ইসমাইল ও কুরবানি; এ দুইটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

ইসমাইল (إِسْمَاعِيل) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Ishmael হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Ishmael পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ অবাঞ্ছিত, অস্পৃশ্য, বামন, বেঁটে castaway, declasse, derelict, displaced person, evictee, exile, expatriate, expellee, god hears, god that hears, leper, outcast, outcast of society, outcaste, outlaw, pariah, persona non grata, social outcast, unacceptable person, undesirable, untouchable. কিন্তু ইসমাইলের (إِسْمَاعِيل) প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ শিশ্ন। যেহেতু; শিশ্ন মৈথুনে যোনির নিকট পরাজিত হয়; তাই; সে অবাঞ্ছিত। দেখতে ছোট তাই সে বামন।

কুরবানি (قُرْبَانِيْ) আরবি পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ নৈকট্যলাভ, বলিদান। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ শুক্রধর, অটল

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। তখন; যৌনোত্তেজনা শিশ্নকে যোনির নিকট নিয়ে যায়। কিন্তু মৈথুনে শিশ্ন বারবার শুক্রপাত করে। যারফলে; সাধকের প্রভুর দর্শনলাভ হয় না। আরবীয় পুরাণে একেই ইব্রাহিম কর্তৃক ইসমাইল কুরবানি করা বুঝানো হয়েছে।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান
এখানে ইউনুস ও মাছ; এ দুইটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

ইউনুস (ﻴُﻨُﻭْﺱٌ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Jonah হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Jonah পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ বিনষ্টকারী, দোলায়মান, Abraham, Amos, Daniel, Ezekiel, Haggai, Hosea, Isaac, Isaiah, Jacob, Jeremiah, Joel, Joseph, Joshua, Malachi, Micah, Moses, Nahum, Samuel, Zephaniah, bad influence, curse, enchantment, evil eye, evil genius, evil star, hex, hoodoo, ill wind, jinx, malevolent influence, malocchio, prophet, spell, voodoo, whammy. কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ শিশ্ন। যেহেতু; শিশ্ন মৈথুনে শুক্র বিনষ্ট করে। তাই; শিশ্নকে বিনষ্টকারী বলা হয়। আর আবৃত শিশ্ন সমান্তরাল (যেমন; গরু ও মহিষের শিশ্ন) কিন্তু অনাবৃত শিশ্ন ঝুলন্ত (যেমন; মানুষ)। তাই; অনাবৃত শিশ্নকে দোলায়মান বলা হয়।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। তখন; যৌনোত্তেজনা শিশ্নকে যোনির নিকট নিয়ে যায়। কিন্তু মৈথুনে শিশ্ন বারবার শুক্রপাত করে। একে আরবীয় পুরাণে ইউনুসের নৌকা হতে পতিত হওয়া বলা হয়েছে। যারফলে; মানুষ বারবার জরায়ু নামক মাছের পেটে গড়ে ৩০৯ দিনের জন্য সন্তান রূপে আবদ্ধ হয়। অতঃপর; সেই মাছের পেট হতে বেরিয়ে আসে। আরবীয় পুরাণে একেই ইউনুস নবির মাছে পেটে বন্দী হওয়া ও মুক্তি পাওয়া বলা হয়েছে।

. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইউসুফ (আঃ) জেলখানা থেকে মুক্তিলাভ করেন
এখানে ইউসুফ ও জেলখানা; এ দুইটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

ইউসুফ (ﻴُﻮْﺴُﻑٌ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Joseph হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Joseph পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ; বৃদ্ধি; যোগ, নিরাভরণ, নিরাবরণ, Bare, increase; addition. কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ পালনকর্তা। আর পালনকর্তা দ্বারা কেবল জীবের জঠরে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সাদা বর্ণের জলকে বুঝানো হয়েছে।

জেলখানার আভিধানিক অর্থ; কারাগার কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ দেহ ও জরায়ু। যেহেতু; ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত জীব হয়তো জীবদেহে নয়তো জীবের জরায়ুতে অবস্থান করে। সেজন্য; আরবীয় পুরাণে দেহ বা জরায়ুকে জেলখানা বলা হয়।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। তখন; অমৃতজল জীবদেহে উৎপন্ন হতে থাকে। অবশেষে; যখন; পুরুষ প্রাণীরা মৈথুনে যোনিতে শুক্রপাত করে; তখন; জরায়ুতে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। আর সাথে সাথে সেই অমৃতজল উক্ত ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত হয়। সর্বশেষে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেই জল দেহধারণ করে প্রাণীতে পরিণত হয়। যেমন; ডিমের সব জল দ্বারা ছানা সৃষ্টি হয়। ডাবের সব জল দ্বারা শিশু ডাবগাছ সৃষ্টি হয়। আরো স্মরণীয় যে; জন্মগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত জীব পিতা-মাতার দেহে অবস্থান করে। তারপর; মাতার জরায়ুতে অবস্থান করে। আর; আরবীয় পুরাণে দেহ ও জরায়ুকে জেলখানার সাথে উপমিত করা হয়। এবং সন্তান রূপে ভূমিষ্ঠ হওয়াকে জেলখানা হতে মুক্তিলাভ করা বলা হয়। তবে;  আরবীয় পুরাণে ইউসুফ (ﻴُﻮْﺴُﻑٌ) এর মুক্তি বলতে জীবের জরায়ুতে সৃষ্ট জীবের আদি পালনকর্তা রূপে অমৃতজল সৃষ্টি হওয়াকেই বুঝানো হয়েছে।

১০.     আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হযরত ইয়াকুব (আঃ) দৃষ্টি ফিরে পান এবং এ দিনেই হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইউসুফ (আঃ) এর সাথে মিলিত হন।
এখানে ইয়াকুব ও ইউসুফ; এ দুইটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

ইয়াকুব (ﻴَﻌْﻘُﻮْﺐٌ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Jacob হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Jacob পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ; গুল্ফ, গোড়ালি, পাদমূল, গোড়ালীধর, গোড়ালির গাঁট, সমগ্র চরণ, কোন-কিছুর পশ্চাদংশ, ankle, heel, tarsus, undermines; that supplants, the heel কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ ভৃগু। আর ভৃগু দ্বারা নারীর জরায়ুর মুখকে বুঝানো হয়েছে।

ইউসুফ (ﻴُﻮْﺴُﻑٌ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Joseph হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Joseph পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ; বৃদ্ধি; যোগ, নিরাভরণ, নিরাবরণ, Bare, increase; addition. কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ পালনকর্তা। আর পালনকর্তা দ্বারা কেবল জীবের জঠরে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সাদা বর্ণের জলকে বুঝানো হয়েছে।

ইয়াকুবের দৃষ্টি ফিরে পাওয়া (Return to Jacob’s Eyes)
ইসলামী পুরাণ বা আরবীয় পুরাণ অনুসারে; দাজ্জালের এক চোখ অন্ধ, ইয়াকুবের দুই চোখ অন্ধ, নবির অন্ধ সাহাবি ইবনে উম্মে মাকতুম এসব একই সূত্রে গাথা। এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; নারীর জরায়ু হতে প্রবাহিত প্রত্যেক ধারাকেই চোখ বলা হয়। সাধারণত; জরায়ু হতে লাল, সাদা ও কালো তিনটি ধারা প্রবাহিত হয়। যেমন;

  1. নদীতে জোয়ার যায় যখন, তিন প্রকার পানি আসে, লাল সাদা কালাবরণ, সেই পানিতে মরা কুম্ভীর, হাজার ডিম্ব পাড়তেছে।” (মরমী কবি কানাইশাহ)
  2. “তিনি অপ্রতিহত গতি এবং লাল, সাদাকৃষ্ণবর্ণ স্রোতসমূহ দ্বারা পরিব্যাপ্ত।” (ঋবেসপ্রখপম, সূ-৪৩, ঋ-১৩)
  3. প্রথমে যে সন্তানটির জন্ম হলো; তার গায়ের বর্ণ ছিল লাল ও তার শরীর লোম দ্বারা কোর্তার মতো ঢাকা। এজন্য; তার নাম রাখা হলো লোমশ। অতঃপর; লোমশের পায়ের গোড়ালী ধরা অবস্থায়, তার ভাইয়ের জন্ম হলো। এজন্য; তার নাম রাখা হলো গোড়ালীধর (ইয়াকুব)।” (তোরাহ, সূচনাক্রম, ২৫/২৪-২৬)
  4. “তখন আগুনের অন্য একটি লাল ঘোড়া বের হয়ে এলো। (ইঞ্জিল- ২৭শ খণ্ড, প্রকাশিত কথা, ৬/৩-৬)
  5. “তখন আমি একটা সাদা ঘোড়া দেখতে পেলাম। (ইঞ্জিল-২৭শ খণ্ড, প্রকাশিত কথা, ৬/৭-৮)
  6. “তারপর; আমি একটা কালো ঘোড়া দেখতে পেলাম। (ইঞ্জিল-২৭শ খণ্ড, প্রকাশিত কথা, ৬/৫-৬)
  7. “ أَلَمْ تَرَى أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنْ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ ثَمَرَاتٍ مُخْتَلِفًا أَلْوَانُهَا وَمِنْ الْجِبَالِ جُدَدٌ بِيضٌ وَحُمْرٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌ” উচ্চারণ; “আলাম তারা আন্নাল্লাহ আনজালা মিনাছামায়ি মায়া, ফা আখরাজনা বিহি সামারাতিম মুখতালিফান আলওয়ানুহা, ওয়া মিনাল জিবালি জুদাদুম বাইজুউ ওয়া হুমরুম মুখতালিফুন আলওয়ানুহা ওয়া গারাবিবু ছুউদু।” অর্থ; “তুমি কী দেখ নাই যে; কাঁই আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর; আমরা তা দ্বারা ফলপুঞ্জ বের করি, সে সবের বর্ণ বিভিন্ন প্রকার এবং পাহাড়ে বিভিন্ন বর্ণের গীরিপথ রয়েছে, পন্থাদি বিভিন্ন বর্ণের; তা হলো লাল, সাদানিকষ কালো(কুরান- ফাতির- ২৭)

তার মধ্যে লাল ধারাকে রজস্রাব বলা হয়। এটি পরিণত বয়সে প্রাকৃতিক নিয়মে আগমন এবং প্রত্যাগমন করে। ঋতুমতীর জরায়ু হতে প্রতি মাসেই একবার প্রবাহিত হয়। এর কোনো সাধন নেই। এটি অসার ও মরা রক্ত। এই রক্ত কাঁচা বা গরম করে পান করা নিষিদ্ধ। আবার; রজপট্টি শুকিয়ে ভিজিয়ে চিপে কাঁচা বা রান্না করে পান করাও নিষিদ্ধ। ঋতুকালীন মৈথুন করাও নিষিদ্ধ।

এছাড়াও জরায়ু হতে সাদা ও কালো আরো দুইটি ধারা প্রবাহিত হয়; যা পাকা সাধক গুরু ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। অনেক সাধনা দ্বারা এই ধারা দুইটির দর্শনলাভ করতে হয়। সাদা ধারার দর্শনকারীকে বলা হয় সাঁইজি/ বৈষ্ণব/ নায়িবে রাসুল (نَايِبِ رَسُوْلٌ)। আর কালো ধারার দর্শনকারীকে বলা হয় কাঁইজি/ বৈরিঞ্চি/ ব্রাহ্মণ/ অয়ালিউল্লাহ (ﻮلي الله)। এই দুই ধারা বন্ধ থাকাকে বলা হয় অন্ধ। একটি বন্ধ থাকলে বলা হয় এক চোখ অন্ধ। আর দুইটিই বন্ধ থাকাকে বলা হয় দুই চোখই অন্ধ।

বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; এখানে জরায়ুর মুখকে বলা হয়েছে ইয়াকুব এবং জরায়ুর সাদা ধারাকে বলা হয়েছে ইউসুফ। জরায়ুর ধারা প্রবাহ বন্ধ থাকাকে বলা হয়েছে অন্ধ। আর ধারা প্রবাহিত হওয়াকে বলা হয় চক্ষুষ্মান। তাই; বলা হয়েছে জরায়ু হতে যখনই সাদা ধারা বের হয়; তখনই ইউসুফ জেল হতে মুক্তি পায়। আর সঙ্গে সঙ্গেই ইয়াকুবের সাথে ইউসুফের সাক্ষাত হয়। অর্থাৎ; সাদা ধারা তো জরায়ুর মুখ দিয়েই বের হয়। একেই পিতা-পুত্রের সাক্ষাত বলা হয়েছে।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। তখন; অমৃতজল জীবদেহে উৎপন্ন হতে থাকে। অবশেষে; যখন; পুরুষ প্রাণীরা মৈথুনে যোনিতে শুক্রপাত করে; তখন; জরায়ুতে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। আর সাথে সাথে সেই অমৃতজল উক্ত ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত হয়। এভাবে যতক্ষণ সন্তান উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে; ততক্ষণ উক্ত দুইটি দ্বার বন্ধ থাকে। অর্থাৎ; পৌরাণিক ভাষায় চোখ অন্ধ থাকে। যখন কোনো সাধক অমৃত জল বের করতে সক্ষম হয়; তখন চোখ খোলে। অর্থাৎ; সাধকের পালনকর্তার সাথে দেখা হয়। আরবীয় পুরাণে জরায়ুর মিষ্ট জলের দুই ধারাকে দুইটি চোখ বলা হয়। সেই সাদা অমৃত জলকেই বলা হয় ইউসুফ (ﻴُﻮْﺴُﻑٌ)। আর সাদা জলের দর্শন পাওয়াকে পিতা-পুত্রের সাক্ষাত হওয়া বলা হয়েছে।

১১. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হজরত নূহ (আঃ)-এর মহাপ্লাবন কবলিত নৌকা জুদ পর্বতের মাটি স্পর্শ করে।
এখানে নূহ, মহাপ্লাবন, নৌকা ও জুদি পর্বত; এ চারটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

নূহ (ﻨُﻭْﺡٌ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Noah হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Noah পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ; প্রবোধ, শান্তি, বিশ্রাম, সান্ত্বনা, শান্তিপূর্ণ, repose; consolation, motion, rest, quaver or totter. কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ ভগ। ভগ দেখতে নৌকার মতো তাই; একে নৌকার সাথে উপমা করা হয়। আর নৌকাধারীকে নূহ (ﻨُﻭْﺡٌ) বলা হয়।

মহাপ্লাবন, প্লাবন, বন্যা, বান, জোয়ার ও জলৌচ্ছ্বাস পরিভাষার আভিধানিক অর্থ জলমগ্ন হওয়া কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ রজস্রাব। এছাড়াও; এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; এসব পরিভাষারও একটি আভিধানিক অর্থ আছে; জরায়ু থেকে রক্তস্রাব হওয়া (Bleeding from the uterus)। তাই; এসব পরিভাষার পরিভাষিক বা প্রায়োগিক অর্থ রজস্রাব হওয়া একেবারেই যথাযথ। অর্থাৎ; উপরোক্ত পরিভাষাগুলো দ্বারা সারা বিশ্বের সব শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণে সর্বদাই নারীদের রজস্রাব বুঝানো হয়।

নৌকার আভিধানিক অর্থ জাহাজ, তরী, তরণী, জলযান, ডিঙ্গা, ডিঙ্গি, লা ও নাও কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ ভগ, যোনি

জুদি/ জুডি (جُودِيْ) আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ; জলবীর, মুক্তহস্ত, উদারচিত্ত, Lavish rবি পিপাসার অধিক জলদাতা পাহাড় (প্র) . আরব উপদ্বীপের একটি পাহাড় বিশেষ . ইসলামী পুরাণ অনুসারে; নূহের নৌকা এ পাহাড়ে ভিড়েছিল। এজন্যই; এটি বিখ্যাত। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; শিশ্ন

যেমন; বাংলায় লিঙ্গ ও লিঙ্গান্তর রয়েছে। বাংলায় লিঙ্গ চার প্রকার। যথা; ১. পুরুষ লিঙ্গ ২. স্ত্রী লিঙ্গ, ৩. উভয় লিঙ্গ ৪. ক্লীবলিঙ্গ। তেমনই; আরবিতে লিঙ্গ দুই প্রকার। যথা; ১. মুজাক্কার ও ২.মুয়ান্নাস। যেমন; বাংলায় তরুণ-তরুণী; তেমনই; আরবিতে জুদ/ জুড (جُودٌ)-জুদি/ জুডি (جُودِيْ)। তাই; এখানে জুদি/ জুডি (جُودِيْ) না হয়ে জুদ/ জুড (جُودٌ) হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। হয়তবা পূর্বের জুদ/জুডই এখন জুদি/জুডি হয়েছে। কারণ; আরবিতে জুদ/ জুড (جُودٌ) অর্থ তরুণ এবং জুদি/ জুডি (جُودِيْ) অর্থ তরুণী। ভারতীয় উপমহাদেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বৈবাহিক নিয়ম অনুসারে; বিবাহের দ্বারা মেয়ে ছেলের কাছে বা ছেলের বাড়িতে যায় এবং ঘরোনী রূপে বাস করে। কিন্তু আফ্রিকা মহাদেশের নারীতান্ত্রিক সমাজের বৈবাহিক নিয়ম অনুসারে; বিবাহের দ্বারা ছেলে মেয়ের কাছে বা মেয়ের বাড়িতে যায় এবং ঘরজামাই রূপে বাস করে। এখানে নূহ (ﻨُﻭْﺡٌ) এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ ভগ। অর্থাৎ; ভগবতী বা যুবতী। আর যুবতী একজন যুবকের কাছেই যাবে। তাই; এখানে জুদি/ জুডি (جُودِيْ) এর পরিবর্তে অবশ্যই জুদ/ জুড (جُودٌ) হবে। অর্থাৎ; যুবক হবে। অর্থাৎ; এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ হবে শিশ্ন। এককথায় যোনি সর্বদাই শিশ্নের সাথে বাধা থাকে। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে; বিবাহ দ্বারা একজন নারী অবশ্যই একজন পুরুষের সাথে বাস করবে। অন্যথায়; সমাজে অঘটন ঘটার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। তখন; নারীর রজস্রাব আরম্ভ হয়। তারপর; তাকে বিবাহ দেওয়া হয়। অতঃপর; আবার মানুষ হতে মানুষ সৃষ্টির প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়। আরবীয় পুরাণে নারীর রজস্রাব আরম্ভ হওয়াকে মহাপ্লাবন বলা হয়েছে। বিবাহের মাধ্যমে মেয়ে ছেলের বাড়িতে যাওয়াকে নৌকা ভাসানো বলা হয়েছে। আর সন্তান উৎপাদন আরম্ভ করাকে নৌকা তীরে ভেড়া বুঝানো হয়েছে।

১২.     আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মহররম মাসের ১০ তারিখে হজরত সুলাইমান (আঃ) তাঁর রাজত্ব ফিরে পান।
এখানে সুলাইমান ও রাজত্ব; এ দুইটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

সুলাইমান (ﺴُﻟَﻴْﻤَﺎﻦٌ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Solomon হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Solomon পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ; শান্তিপ্রিয়; শান্তিপূর্ণ; নিখুঁত; peaceable; peaceful; perfect; one who recompenses. কিন্তু এর পারিভাষিক বা প্রায়োগিক অর্থ; শিশ্ন

রাজত্বের আভিধানিক অর্থ; রাজ্য, আধিপত্য, শাসনকাল। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ যৌবনকাল

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অর্থাৎ; আবার মানুষ যৌবন ফিরে পায়। অর্থাৎ; পূর্ববর্তী দাদার ও বাবার যৌবন ফিরে পায়। আরবীয় পুরাণে কিশোর-কিশোরীর যৌবনে পদার্পণ করাকে পূর্বের রাজত্ব ফিরে পাওয়া রূপে বুঝানো হয়েছে।

১৩. আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে হজরত মুসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীগণ আল্লাহর কুদরতে সৃষ্টি হওয়া সাগরের মাঝে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যান। আর ফেরাউন ও তার বাহিনীর সলিল সমাধি হয়
এখানে মুসা, সাগর, সাগরের মধ্যবর্তী রাস্তা, ফেরাউন ও তার বাহিনীর সলিল সমাধি; এ ছয়টি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

মুসা (ﻤُﻭْﺴَﻰٰ) আরবি পরিভাষা। কিন্তু এটি গ্রিক Moses হতে এসেছে। অর্থাৎ; গ্রিক Moses পরিভাষাকে বর্ণান্তরণ করে এই আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আভিধানিক অর্থ; ক্ষুর, জল; Abraham, Amos, Daniel, Ezekiel, Haggai, Hosea, Isaac, Isaiah, Jacob, Jeremiah, Joel, Jonah, Joseph, Joshua, Malachi, Micah, Nahum, Samuel, Zephaniah, prophet, vates sacer. কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; ভৃগু। আর ভৃগু অর্থ নারীর জরায়ু মুখ।

সাগর এর আভিধানিক অর্থ; সমুদ্র, পাথার, বৃহৎ জলরাশি কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ জরায়ু

সাগরের মধ্যবর্তী রাস্তার প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; যোনিপথ। আর সলিল সমাধির প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; মৈথুনে শুক্রপাত।

ফেরাউন (فِرْعَوْنٌ) আরবি পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ; লুটপাট, প্রাচীন মিশরের রাজাদের উপাধি (Pharaoh; The title of kings of ancient Egypt)। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ শিশ্ন

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অতঃপর; মৈথুনের জন্য মানুষ জরায়ুর মুখের কাছে যায়। অতঃপর; শুক্রপাত রূপ মৃত্যু দ্বারা মানুষের যৌনোত্তেজনা প্রশমিত হয়। কিন্তু কামেন্দ্রিয়গুলো যেমন তেমনই থেকে যায়। আরবীয় পুরাণে মৈথুনে শুক্রপাতের মাধ্যমে যৌনোত্তেজনা প্রশমিত হয় কিন্তু কামেন্দ্রিয়াদির কোনো পরিবর্তন হয় না এরূপ বুঝানোর জন্য বলা হয়েছে; সাগরের মাঝের রাস্তা দিয়ে মুসা (অসি) নদী পার হয়েছে কিন্তু ফেরাউন (শিশ্ন) ও তার বাহিনীর (অজ্ঞতা, কাম ও লোভ ইত্যাদি) সলিল সমাধি হয়েছে।

১৪.     আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে; রসুল (সা.)-এর নাতি ইমাম হোসাইন কারবালার প্রান্তরে নিহত হন এই দিনেই।
এখানে হোসাইন, কারবালা ও নিহত হওয়া; এ তিনটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

হোসাইন (حُسَيِنٌ) আরবি পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ; অধিক সুন্দর; অত্যন্ত ভালো। কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ হলো; নাসিকার বামশ্বাস

কারবালা (كَرْبَلاَءٌ) আরবি পরিভাষা। কারবালা ইরাকের অন্তর্গত একটি শহর। এটি বাগদাদের ১০০ কিমি (৬২ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এই শহর কারবালা প্রদেশের রাজধানী। ২০০৩ সালের গণনা অনুযায়ী; এখানকার জনসংখ্যা ৫,৭২,৩০০ জন। কারবালা মূলত কারবালার যুদ্ধ সংঘটন স্থান হওয়ার কারণে অধিক পরিচিত।

কারবালা (كَرْبَلاَءٌ) মূলত; আরবি গারবালা (غَرْبَالٌ) হতে অপভ্রংশ হয়ে উৎপন্ন হয়েছে। গারবালা (غَرْبَالٌ) অর্থ চালুনি, ছাঁকনি, ঝাঁঝর, মিনখাল (مِنْخَلٌ), strainer, boulter, bolter, riddle. তাই; গারবালা (غَرْبَالٌ) এর আভিধানিক অর্থই কারবালা (كَرْبَلاَءٌ) এর আভিধানিক অর্থ রূপে গণ্য। তাই বলা যায়; কারবালার (كَرْبَلاَءٌ) আভিধানিক অর্থ চালুনি কিন্তু কারবালার (كَرْبَلاَءٌ) প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ ভৃগু। কারণ; ভৃগু মৈথুনের সময়ে টল পুরুষ ও অটল পুরুষ চালতে (যাচাই করতে) সক্ষম। সেজন্যই; সারাবিশ্বের সব পুরাণে ভৃগুকে চালুনির সাথে উপমিত করা হয়। অর্থাৎ; কারবালার (كَرْبَلاَءٌ) প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ ভৃগু। আর ভৃগু দ্বারা নারীর জরায়ুর মুখকে বুঝানো হয়েছে।

নিহত হওয়ার আভিধানিক অর্থ ধ্বংস হওয়া, মারা যাওয়া কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক হলো; শুক্রপাত

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। তখন কোনো সাধক বামশ্বাসের যোগ দ্বারা মৈথুন করে নারীদেহ হতে অমৃতজল আহরণ করতে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুক্র নিয়ন্ত্রণ না করার কারণে জল আহরণ করতে না পেরে শুক্রপাত করতে বাধ্য হয়। আরবীয় পুরাণে বামশ্বাসের অক্ষমতার কারণে শুক্রপাত করাকে কারবালায় হোসাইনের মৃত্যু রূপে বর্ণনা করা হয়। কেবল হোসাইন নন; অখণ্ড ভারতের মরমী কবি মহাত্মা লালন সাঁইজিও লিখেছেন; সেযে অমৃত-সাগরের সুধা, পান করলে তৃষ্ণা ক্ষুধা, রয় না; লালন মরল জল পিপাসায় রে, কাছে থাকতে নদী মেঘনা। (পবিত্র লালন২৫৭/)

১৫.     আরবীয় পুরাণ অনুসারে; মহররম মাসের ১০ তারিখে কিয়ামত সংগঠিত হবে।
এখানে কিয়ামত; এ একটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

কিয়ামত (قِيَامَةٌ) আরবি পরিভাষা। এর আভিধানিক অর্থ; শেষদিনে পুনরূজ্জীবন; Resurrection. কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ; শুক্রপাতের দ্বারা শিশ্ন সঞ্চালন গতি স্থির করা। কারণ; যে কোনো প্রকার থামা বা দাঁড়ানোকেই আরবিতে কিয়ামত বলা হয়। যেহেতু; কুরান জীবন বিধান। তাই; জীবনের সাথেই এর আয়াতের সঙ্গতি অধিক।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অর্থাৎ; মানুষের যোনি-শিশ্ন খাড়া (দণ্ডায়মান) হয়। অতঃপর; শুক্রপাত হলে শিশ্ন সঞ্চালন গতি স্থির হয়। আরবীয় পুরাণে শুক্রপাতের মাধ্যমে উত্থিত শিশ্নের গতি স্থির হওয়াকেই থেমে যাওয়া বা কিয়ামত রূপে বুঝানো হয়েছে। তারপর; পুরুষদেহ যৌন আগুনে পুড়ে শুক্র প্রস্তুত করে। আর তা নাসিকার বাতাসে উড়তে থাকে। তারপর; নারীদেহ যৌন আগুনে পুড়ে কামরস প্রস্তুত করে। এটিও নাসিকার শ্বাসে উড়তে থাকে। পৌরাণিক সাহিত্যে পুরুষকে বলা হয় আকাশ ও নারীকে বলা হয় ভূমি। তাই; কিয়ামতের পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়েছে। সেদিন আকাশ-পৃথিবী ভেঙ্গে তুলার মতো উড়তে থাকবে।

১৬. আরবীয় পুরাণ অনুসারে; মহররম মাসের ১০ তারিখে সবার পুনরুত্থান হবে
এখানে পুনরুত্থান; এ একটি পৌরাণিক পরিভাষা রয়েছে।

পুনরুত্থানের আভিধানিক অর্থ হলো; আবার উত্থান করা কিন্তু এর প্রায়োগিক বা পারিভাষিক অর্থ হলো; আবার; জরায়ু হতে সন্তান রূপে ভূমিষ্ঠ হওয়া। অর্থাৎ; পিতা-মাতা মৈথুনে শুক্রপাতের দ্বারা মরে জরায়ুতে সমাধিস্থ হয়; আবার; মাত্র ৩০৯ দিন পর সন্তান রূপে বেরিয়ে আসে। তাই; আরবীয় পুরাণে শুক্রপাতকে মরা এবং ভূমিষ্ঠ হওয়াকে পুনরুত্থান বলা হয়।

মানবসন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর (মুহাররাম মাসের ১০ তারিখে) ১০ম ইন্দ্রিয় উপস্থ (যোনি-শিশ্ন) সক্রিয় হয়। অতঃপর; আবার; মানুষ সন্তান রূপে পুনরুত্থান আরম্ভ করে। আরবীয় পুরাণে সন্তান রূপে জন্মগ্রহণ করাকেই পুনরুত্থান রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র)
(সংক্ষিপ্ত সংকলন)
মিথোলোজি টু থিওলোজি; লেকক; বলন কাঁইজি।

বহিঃসংযোগ (External links)

  1. “সৌর-পঞ্জিকা”। http://onushilon.org। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
  2. সৈয়দ আশরাফ আলী (জানুয়ারি ২০০৩)। “বাংলা বর্ষপঞ্জি”। সিরাজুল ইসলাম। [[বাংলাপিডিয়া]]। ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ। আইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
  3. “যেভাবে এলো ইংরেজি ক্যালেন্ডার”। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম অনলাইন। ৩১ ডিসেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
  4. “রোমের সৌর পঞ্জিকা”। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন। ১৬ এপ্রিল ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
  5. Introduction to Calendars. United States Naval Observatory. Retrieved 15 January 2009.
  6. Calendars by L. E. Doggett. Section 2.
  7. The international standard for the representation of dates and times, ISO 8601, uses the Gregorian calendar. Section 3.2.1.
  8. The Indian Calendar, NASA Eclipse Website.

———————————————————————————–

  1. ১০ মুহাররাম (১ম পর্ব); পঞ্জিকা নির্ধারণ (10 Muharram (1st episode)); (Calendar selection)
  2. ১০ মুহাররাম (২য় পর্ব); ইসলামী পৌরাণিক বর্ণনাগুলোর আত্মদর্শন (10 Muharram (2nd episode)); (Introspection of those Islamic mythologies)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!